ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শহর দারকা বাস্তবে খুজে পাওয়া গেল

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শহর দারকা

দারকা নামটা শুনলে মনে পড়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা। একসময়ের উন্নত নগর গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নগর দারকা আজ হারিয়ে গেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বর্তমানের দ্বারকা শহর নামে যে শহরটিকে আমরা চিনি সেটি ভারতের পশ্চিমের গুজরাট রাজ্যের জামনগর জেলায় অবস্থিত। চারধাম নামে পরিচিত চারটি প্রধান তীর্থস্থান এর একটি হলো দ্বারকা। দ্বারকা কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী বলা হয়েছে। এই কারণে শ্রীকৃষ্ণের অপর নাম হল দ্বারকেশ্বর

অতীতে এই শহরটিকে গল্প হিসেবে মনে করা হলেও এই স্থানে ২০০০ সালের আশেপাশে একটি প্রত্নত্বত্ত সমীক্ষায় খোঁজ মেলে এক শহরের ধ্বংসাবশেষের।মূলত ১৯৮০ সালে ভারত সরকার জিএসআই এর নেতৃত্বে সমুদ্রে একটি গবেষণা চালায়। এই গবেষণায় খাম্বাত উপসাগর এলাকায় রাডার চিত্রের মাধ্যমে দেখা যায় জলের তলায় অবস্থিত একটি শহরের।

আরও পড়ুন-বিহারের ৭০ বছরের বৃদ্ধ ৩০ বছরের কঠোর পরিশ্রমে একাই ৩ কিলোমিটার খাল কাটলেন

জলের তলায় এই ধ্বংসাবশেষের খোঁজ প্রথম পায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজি। জল দূষণ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা সমুদ্রের তলায় দেখতে পায় এই শহরটির ধ্বংসাবশেষ। সেখানে তারা দেখতে পায় নানা আকৃতির স্তম্ভ এবং ইমারত ৩০ মিটার সমুদ্রের গর্ভে অবস্থিত স্থানটি সমুদ্র তট্ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে জলের তলায় পুরো শহরের খোঁজ পাওয়া যায় যেখানে রয়েছে ঘর বাড়ি, রাস্তাঘাট, গলি, জলাশয় প্রভৃতি। গবেষণায় জানা যায় এই সভ্যতাটি হরপ্পা সভ্যতার পূর্ববর্তী।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শহর দারকা

বিংশ শতাব্দীর এই গবেষণায় চমকিত হয় সারা বিশ্ব কারণ সমস্ত প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতাগুলি থেকেও প্রায় এক হাজার সাল পুরনো ছিল এই সভ্যতা। এরপর গবেষণা থেকে পাওয়া যায় আরো নতুন নতুন তথ্য এই সভ্যতা সম্পর্কে। মহাভারত ও পুরাণ অনুযায়ী আমরা সকলেই জানি এই দ্বারকা নগরীর ব্যাপারে তবে জলের নিচে এই সভ্যতার আবিষ্কার ভারতের হিন্দু ধর্মে উল্লেখিত নানা ধরনের ঘটনার সাক্ষ্য প্রমাণ হিসাবে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মথুরা থেকে চলে আসার পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই দ্বারকা নগরীর নির্মাণ করেন। মনে করা হয় শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর পর এই শহরটি সমুদ্রের অতলে হারিয়ে যায়। যখন শ্রীকৃষ্ণ কংসকে বধ করল তারপর জরাসন্ধ কৃষ্ণ এবং যদুবংশীয় দের নিঃশেষ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ হয়। সে সুযোগ পেলেই বার বার যাদবদের ওপর হামলা করতে থাকে। ধীরে ধীরে তার অত্যাচার বাড়তে থাকে সেই পরিস্থিতিতে যাদবদের সুরক্ষার কথা ভেবে শ্রীকৃষ্ণ মথুরা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আর যখন দ্বারকা নগরে শ্রীকৃষ্ণ দেহত্যাগ করেন তখন যাদবদের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই শুরু হয়। যারা বেঁচে থাকেন তারা হস্তিনাপুর চলে যান। এরপর প্রলয়কালে সমুদ্র গর্ভে হারিয়ে যায় নগরীটি।

২০০১ সালে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ডঃ মুরলি মনোহর যোশি ঘোষণা করেন প্রাচীন সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ যেটি গুজরাটের খাম্বাত খাঁড়ি এলাকায় অবস্থিত। মনেকরা হয় এটিই সেই পৌরাণিক যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বারা নির্মিত নগর দ্বারকা। নানারকম বর্গক্ষেত্র ত্রিভুজ আকৃতির স্থাপত্য দ্বারা নির্মিত এই শহরটি। সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে কাঠের টুকরো মাটির পাত্র, নানা রকমের পাথরের যন্ত্র, অস্ত্র, হাড়, দাঁত প্রভৃতি। দেশ ও বিদেশের নানা নামিদামি সংস্থা পাঠানো হয় এই সমস্ত জিনিস গুলি। যেখানে পরীক্ষা করে জানা যায় সমুদ্রতল থেকে পাওয়া বস্তুগুলি প্রায় নয় হাজার পাঁচশ বছর পুরনো।

Leave a Reply