আফ্রিকার ৮ টি বিপদজ্জনক প্রানী

আফ্রিকার ৮ টি বিপদজ্জনক প্রানী: পৃথিবীর প্রায় বেশিরভাগ জীবজন্তুর মূল বাসস্থান আফ্রিকা মহাদেশে । আর এই মহাদেশের প্রাণী কূলের মধ্যে রয়েছে বেশকিছু বিপজ্জনক প্রাণী। সেরকমই ৮ টি প্রাণীর ব্যাপারে আলোচনা করা হল। 

পাফ অ্যাডার – আফ্রিকার একটি জনপ্রিয় বিষধর সাপ হলো পাফ অ্যাডার প্রজাতি। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের একটি এই সাপ। এরা লম্বায় ১ মিটার পর্যন্ত হয়। এদের ওজন ৬ কেজির বেশি হতে পারে। এরা দেখতে স্থুল প্রকৃতির হয়। এই পাফ ক্যাডারের মাথাটি ঘাড় থেকে চওড়া এবং ত্রিভুজ আকৃতির হয়ে থাকে। সাপটির গায়ের রং বাদামী অথবা কালচে বাদামী হয়ে থাকে এবং পিঠের ওপর ভি (v) আকৃতির ডোরাকাটা চিহ্ন দেখা যায়। তৃণভূমিতে এদের বেশি দেখা মেলে তবে এরা মরুভূমি এলাকায় থাকে না। স্থুল আকৃতির এই সাপটি ধীরস্থির প্রকৃতির হয়। নিশাচর এই প্রাণীটির খাদ্যতালিকায় ছোটখাটো পাখি, গিরগিটি, ইঁদুর পড়ে। শান্ত আচরণের হলেও আফ্রিকায় প্রতিবছর প্রচুর মানুষ এর কামড়ে প্রান হারায়। 

মশা – আফ্রিকার ভয়ঙ্কর একটি জীবের তালিকায় মশা বেশ প্রসিদ্ধ। আকারে ক্ষুদ্র হলেও এর ছোট একটি কামড় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়ায়। কারণ এই মশা প্রধানত ম্যালেরিয়ার ভাইরাস বহন করে। এই মশার কামড়ে আফ্রিকায় প্রতিবছর প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়। মূলত অ্যানোফিলিস মশা এই রোগ ছড়ায়। তবে বর্তমানে এর চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। বছরে ৭০ মিলিয়নের বেশি লোক মশার কামড়ে অসুস্থ হয়।

জলহস্তী – আফ্রিকার জলহস্তী বেশ নামকরা। তারা দূর থেকে দেখতে যতটা সুন্দর কাছ থেকে ততটাই বিপদজনক। এরা সাধারণত দলবেঁধে জলাশয়ে অবস্থান করে। তারা দলবেঁধে নিজেদের জলাশয় এর এলাকা রক্ষা করে। আফ্রিকায় এই জলহস্তীর কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩০০০ লোকের মৃত্যু হয়। এদের চলার গতি ৩২ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। ১০ থেকে ১৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ১ মিটার পর্যন্ত এদের উচ্চতা হয়ে থাকে। স্ত্রী জলহস্তী ওজনে ১৫০০ কেজি হতে পারে। পুরুষ জলহস্তীর ওজন আরো বেশি হয়। আফ্রিকা তথা পৃথিবীর স্থলজ প্রাণীদের মধ্যে জল হস্তি তৃতীয় বৃহত্তম। 

আফ্রিকান সিংহ – পশুরাজ সিংহের দুটি প্রজাতির একটি রয়েছে এশিয়াতে আর একটি প্রজাতি রয়েছে আফ্রিকাতে। এশিয়াতে মূলত ভারতের গির অরণ্য অল্প পরিমাণে দেখা যায়। এশিয়ার সিংহের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি। দক্ষিণ তথা সম্পূর্ণ এশিয়ার প্রায় সমস্ত জায়গাতেই সিংহ দেখা যায়। আফ্রিকার সিংহের সংখ্যা প্রায় ৩০,০০০।আফ্রিকার ক্রুগার এবং তানজিনিয়ায় বেশকিছু সিংহের হামলায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সাধারণত এরা মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। তবে বিপদজনক প্রাণীর শীর্ষ তালিকায় এদের স্থান রয়েছে। আফ্রিকায় কেনিয়া এবং উগান্ডার রেলপথ নির্মাণের ব্যস্ত রেল কর্মীদের ওপর হামলা চালায় কিছু সিংহ এই ঘটনাটি বেশ প্রসিদ্ধ এবং অদ্ভুত একটি ঘটনা। পুরুষ সিংহের ওজন ২৭০ কেজি হতে পারে এবং স্ত্রীদের ১৮০ কেজি পর্যন্ত। 

আরও পড়ুন-অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিপদজনক প্রাণী

আফ্রিকার বিপদজ্জনক প্রানী

কুমির – প্রায় সমস্ত আফ্রিকার নদ-নদীতে এই কুমির দেখা যায়। যেমন বিশালাকৃতির চেহারা তেমন তাদের চোয়াল। আফ্রিকার ২৬ টি দেশে দেখা যায় বিশাল আকৃতির নাইল কুমির। এরা লম্বায় ১০ থেকে ১৬ ফুট হয়। ওজনে এরা ২২৫ থেকে ৭৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সরীসৃপ প্রাণী প্রতিবছর আফ্রিকায় জলাধার এর কাছে কুমিরের হামলায় প্রায় ৩০০০ হাজার জনের মৃত্যু হয়। তাই একে নিঃসন্দেহে বিপদজনক প্রাণীর তালিকায় রাখা যায়। 

ব্ল্যাক মাম্বা – দক্ষিণ আফ্রিকার বিপজ্জনক প্রাণী গুলির মধ্যে আরেকটি বিশেষ সাপের নাম উঠে আসে আর তা হল ব্ল্যাক মাম্বা। আফ্রিকায় ব্ল্যাক মাম্বা একটি অন্যতম ভয়ের কারণ। সাপটি ২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় চলতে পারে। এরা খুব রাগী হয় এবং প্রচন্ড আক্রমণশীল হয়ে থাকে। এদের খাদ্যতালিকায় ছোটখাটো স্তন্যপায়ী এবং পাখি ধরা যায়। সাপটি লম্বায় ১৪ ফুট পর্যন্ত হয়। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে লম্বা সাপ। 

গ্রেট হোয়াইট সার্ক – মাছের জগতে সবচেয়ে বড় এবং দুর্ধর্ষ শিকারি মাছ হলো হাঙ্গর। আর এই হাঙ্গরের একটি বিশেষ প্রজাতি হল গ্রেট হোয়াইট সার্ক (হাঙর)। এই প্রজাতির হাঙ্গর আফ্রিকার উপকূলে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। তবে এদের খাদ্যতালিকায় মানুষ না থাকলেও এরা খুব আক্রমণাত্মক এবং সমুদ্রের দুর্ধর্ষ শিকারি প্রাণী। মানুষ এদের খাদ্য তালিকাতে না থাকলেও বেশকিছু আক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এরা মূলত পরীক্ষা করে দেখতে গিয়ে আক্রমণ করে আর এতেই অনেকের মৃত্যু হয়। একটি গ্রেট হোয়াইট লম্বায় ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এরা ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। 

আফ্রিকান মোষ – এই মোষ আফ্রিকায় বেশ বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়। যে পরিমাণ মোষ আফ্রিকায় দেখা যায় তা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। এরা অবশ্যই তৃণভোজী প্রাণী তবে এদের আক্রমণে প্রতিবছর আফ্রিকাতে প্রায় ২০০ জন মানুষ মারা যায়। এরা লম্বায় ২ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত হয় এবং উচ্চতা এরা ১.৫ পর্যন্ত হয়। আক্রমণ করার জন্য তারা তাদের ধারালো শিং ব্যবহার করে। এরা মানুষের ওপর হামলা করে বেশি এমনটা মনে করে অনেকেই। তাই একে বিপদজনক প্রাণীর তালিকায় রাখা হয়। 

আফ্রিকা পৃথিবীতে সমস্ত প্রাণীদের আদি বাসস্থান এবং বন্য জীবজন্তুর জগৎ। এই সমস্ত প্রাণী যেমন বিপদজনক তেমনি প্রাকৃতিক ভাবে সুন্দর। এরা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরা কোন কোন ব্যাপারে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা ভালো হবে। তবে এই জগতে মানুষ যতটা জরুরি তেমনি এই বিপজ্জনক প্রাণী গুলোও জরুরী। 

“আফ্রিকার ৮ টি বিপদজ্জনক প্রানী”-এ 1-টি মন্তব্য

Leave a Reply