জনপ্রিয় কার্টুন মিকি মাউজের ধারনা কোথা থেকে এল

ছোট থেকে বড় সবারই পছন্দ কার্টুন। সবাই ভালবাসে কার্টুন। আর এই কার্টুন জগতের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ একটি কার্টুন মিকি মাউস। বিশ্বের প্রথম সারির সবচেয়ে সফল কার্টুন ছিল মিকি মাউস। কিন্তু এই মিকি মাউস যতটা সফলতা অর্জন করেছিল কার্টুনের দুনিয়ায় এর নির্মাণের ইতিহাস টা ছিল ততটাই হতাশা আর মুশকিলে ভরা। মিকি মাউস আমাদের সবার মনে এমন জায়গা করে নিয়েছে যে তা ভোলা সম্ভব নয়। 

মিকি মাউজ কার্টুন|Mickey Mouse Cartoon

সারা বিশ্বের মানুষ মিকি মাউসের চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত। মিকি মাউস চরিত্রের ব্যাপারে আগে থেকে কিছু ভাবা ছিল না। আসলে কার্টুনের জগতে একটি খরগোশের চরিত্রে মিকির সূচনা হয়েছিল। কার্টুনটি প্রথম ১৯২৭ সালে বানানো হয়েছিল। আর এই কার্টুনটির নির্মাতা ছিলেন ওয়াল্ট ডিজনি। কার্টুনটার নাম দেওয়া হয়েছিল অসওয়াল্ড দ্যা লাকি রাবিট। ডিজনির প্রথম কার্টুন সিরিজ এর চরিত্র ছিল অসওয়াল্ড। আমেরিকার একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা চার্লস মিন্টজ্ এর জন্য ওয়াল্ট ডিজনি এই কার্টুনটি তৈরি করেছিলেন। আমরা জানি মিকি মাউস এর কান ছোট এবং গোল গোল দেখতে। কিন্তু অসওয়াল্ডের কানগুলি বেশ লম্বা ছিল। অসওয়াল্ড একটি খরগোশ এর চরিত্র ছিল। এবং সে হাফপ্যান্ট পড়ে থাকত। মিকি মাউস এর মত তার পায়ে জুতো এবং হাতে মোজা ছিল না। 

মিকির আগে নির্মিত ডিজনির এই চরিত্রটি সারাবিশ্বে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাই সেই সময় ইউনিভার্সাল চলচ্চিত্র কোম্পানি চরিত্রটিকে আইন সম্মতভাবে কিনে নেয়। ইউনিভার্সাল কোম্পানি চরিত্রটিকে কেনার সঙ্গে সঙ্গে ডিজনিকে তাদের অধীনে স্বল্প অর্থের বিনিময়ে কাজ করানোর। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ডিজনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এই ঘটনার পর ডিজনি কোম্পানির সদস্যদের একে একে ইউনিভার্সাল কোম্পানি নিজেদের কোম্পানিতে টেনে নেয়। ডিজনি কোম্পানিতে রয়ে গেছিল মাত্র ২ জন সদস্য। একজন হলেন ওয়াল্ট ডিজনি আর অন্যজন হলেন বিশ্বস্ত কর্মচারী আব আইওয়ার্কস। 

আরও পরুন – চলচ্চিত্রের সূচনা কাল, কিভাবে সৃষ্টি হল হলিউডের

কার্টুন মিকি মাউজ

আইওয়ার্ক ছিলেন অ্যানিমেটর এবং কার্টুনিস্ট। ইউনিভার্সাল কোম্পানি এই রকম পদক্ষেপে দারুন সমস্যায় পড়েছিলেন তারা। তাই তারা নতুন কার্টুন চরিত্র তৈরি করতে মন দেন। তারা চেয়ে ছিলেন এমন চরিত্র তৈরি করতে যাতে করে তারা অসওয়াল্ড চরিত্রটিকে করা টক্কর দিতে পারে। মূলত তখনই তারা নতুন চরিত্র বানানোর বদলে পুরনো চরিত্রের কিছু পরিবর্তন করে নতুন ধরনের চরিত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করে। তারা অসওয়াল্ড নামের খরগোশের চরিত্রটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন করে। যেমন হাতে মোজা, পায়ে জুতো পরিয়ে দেন এছাড়াও লেজটিকে সরু ও লম্বা করেন, পেটটা একটু মোটা করে দেন এবং কানগুলোকে ছোটো করেন। এই রকম কয়েকটি পরিবর্তনের পর সেটি খরগোশের চরিত্রটি থেকে ইঁদুরের চরিত্রে পরিণত হয়। 

ইঁদুরের চরিত্র তৈরি হওয়ার পর এর নাম রাখা হয় মর্টি মাউস। কিন্তু পরে ওয়াল্ট ডিজনির স্ত্রী চরিত্রটির নাম রাখেন মিকি মাউজ। চরিত্র তৈরীর পর ১৯২৮ সালে ডিজনি মিকির প্রথম শর্ট মুভি তৈরি করে। মুভিটির নাম ছিল প্লেন ক্রেজি। মুভিটি প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর মানুষের আকর্ষণ বাড়তে থাকে। ১৯২৯ সালে প্রথম মিকি মাউসের সিনেমাতে চরিত্রের কথা যোগ করা হয়। চরিত্রটিতে কথা বলেছিলেন ওয়াল্ট ডিজনি। আর এখান থেকেই সর্বপ্রথম কথা বলা কার্টুন মিকি মাউস ডিজনি কোম্পানিকে সবচেয়ে জনপ্রিয় বানিয়ে দেয়। এরপর মিকির মতো আরও অনেক চরিত্র তৈরি হতে থাকে যেমন মিনি, ডোনাল্ড ডাক ইত্যাদি। আর বর্তমানে অসংখ্য সিনেমা এবং চরিত্র রয়েছে ডিজনির। 

মিকির মতোই ডিজনির অন্যান্য চরিত্র গুলি মন জয় করে চলেছে সকলের। তৈরির সময় থেকে বেশ কয়েক বছর মিকি মাউস সাদা কালো রঙের কার্টুন ছিল। কিন্তু ১৯৩৫ সালে নতুন অ্যানিমেটরের সাহায্যে ডিজনি মিকিকে রঙিন করে তোলে। এই সময় মিকির জুতো হলুদ রঙের, হাত মোজা সাদারঙের এবং লাল পোশাক পরানো হয়। এরপর মাকি আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কার্টুন জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের জন্য বানানো হয়েছিল দ্য মিকি মাউস ফ্যান ক্লাব এবং মিকি মাউস কমিকসও। 

Leave a Reply