চলুন দেখে নেওয়া যাক ভারতের কিছু ধনী মন্দির

ভারতের কিছু ধনী মন্দির: আমরা দেশের ধনী বাক্তি বলতে আম্বানি, আদানি, বিড়লা, টাটা এদের কেই বুঝি কিন্তু আপনারা জানলে অবাক হবেন দেশের এমন কিছু মন্দির আছে যেগুলো এই সমস্ত ব্যাবসায়ী দের মতোই কোটিপতি।

১.পদ্মনাভস্বামী মন্দির:

কেরালার এই মন্দিরটি ভারতের সবচেয়ে ধনী মন্দির বলে মনেকরা হয়। এখানে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার দান আসে। ২০১৬ তে এই মন্দিরের মোট সম্পদ এর পরিমাণ ছিল ১.৪৭ লক্ষ কোটি। লোকের মুখে শোনা যায় এই মন্দিরের যে সোনা-দানা আছে তার মূল্য প্রায় ১ টিলিয়ন ডলার।

২.ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির:

অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি তে এই মন্দিরের অবস্থান। এই মন্দিরে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার লোক দর্শন করেন। এই মন্দিরটি প্রায় ১ হাজার কেজি সোনা দিয়ে সজ্জিত, প্রত্যেক বছর এই মন্দিরে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা দান হয়।

আরও পড়ুন- ১৮৮৬ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঠান্ডা পানীয় কোকা-কোলা কোম্পানির শুরুর ইতিহাস

ভারতের কিছু ধনী মন্দির

৩.সিরদী সাইবাবা শ্রীন:

এই মন্দিরটি মুম্বাইয়ের আহমেদ নগরে অবস্থিত। এই মন্দিরের অনুগামীদের সাই বাবার অলৌকিক ঘটনার উপর প্রবল ভাবে বিশ্বাস করে। এই মন্দিরটিতে বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা দান হয়।

৪.বৈষ্ণো দেবী মন্দির:

এই মন্দিরটি জন্মুতে অবস্থিত। এই মন্দির দর্শন করতে সারা পৃথিবী থেকে বহু পর্যটক প্রতি বছর ভারতে আসেন। এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মন্দির মানুষের দর্শন এর দিক দিয়ে। এই মন্দিরে বছরে ৫০০ কোটি টাকা দান সংগ্রহ করে।

৫.সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির:

এই মন্দিরটি মুম্বাইয়ে অবস্থিত। এই মন্দিরটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। মন্দিরের ভেতরে যে গনেশর মূর্তি আছে সেটি ৩.৭ কেজি দিয়ে তৈরি। মন্দিরটি দিনে প্রায় ৬০হাজার থেকে ১লাখ মানুষ দর্শন করে।

ভারতের কিছু ধনী মন্দির

৬.জগন্নাথ মন্দির:

এটি ওড়িশার পুরী শহরে অবস্থিত। ২০১০ এর হিসাব অনুসারে মন্দিরের মোট সম্প্রতির পরিমান ১৫০ কোটি। রথ যাত্রা এই মন্দিরের একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে। প্রতি বছর এই রথ যাত্রা উপলক্ষে বহু মানুষ এখানে একত্রিত হয়।

৭.গুরুভায়ুরঅ্যাপান (Guruvayoor temple):

ভারতের কেরালা রাজ্যে গুরুভায়ুর নামক একটি জায়গায় গুরুভায়ুর মন্দির অবস্থিত। এটি একটি হিন্দু মন্দির ও এখানকার হিন্দু যে দেবতার পূজা করা হয় তার নাম গুরুভায়ুরঅ্যাপান। এই দেবতাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ বলা যেতে পারে। মন্দিরটির এখনো পর্যন্ত আনুমানিক মূল্য ২ হাজার কোটি টাকা। এটি ভারতের ধনী মন্দির গুলির মধ্যে একটি, মন্দিরটি আনুমানিক ৪ হাজার বছরের পুরনো। মন্দির সম্বন্ধে একটি লোকো কথা আছে, যেখানে বলা হয়েছে এই মন্দিরে যে মূর্তি আছে তা সর্বপ্রথম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর দ্বারকা নগরিতে স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যার প্রভাবে দারকা নগরির ডুবে গেলেও কৃষ্ণমূর্তি জলে ভেসে যায় এবং সেই সময় বৃহস্পতি মূর্তি টিকে উদ্ধার করে। বায়ু দেবোতার প্রভাবে কেরালায় এই মূর্তিটির পুনরায় স্থাপন করা হয়। এখানে আগমনকরী ভক্তদের বিশ্বাস যে, মন্দিরের দেবতা দর্শনের পর তাদের জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ও পাপ নির্মূল হয়ে যায়।

৮.গোল্ডেন টেম্পলে (Golden Temple):

পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে এই গোল্ডেন টেম্পেল বা সোনায় মোড়া মন্দিরটি অবস্থিত। ১৫০০ শতকের শেষের দিকে মন্দিরটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। পাঞ্জাবের শিখ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান মন্দির হল এই গোল্ডেন টেম্পেল। মন্দিরটিতে বছরে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা আয় হয়। মন্দিরটি একটি সরবরের মাঝখানে অবস্থিত, মন্দিরের উপরিভাগ সম্পূর্ণ সোনার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এই মন্দিরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোগ্রাম সোনার ব্যবহার হয়েছে, এরপর থেকেই মন্দিরটি স্বর্ন মন্দির নামে পরিচিত। মন্দিরটি শুধুমাত্র ভারতবর্ষের নয়, সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। মন্দিরটিতে যে সরবর আছে তা অত্যন্ত স্বচ্ছ বলে মনে করা হয়। বলা হয় যে এই সরবরের জলের সাহায্যে বহু রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে। মন্দিরটি অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। মন্দিরের ভিতরে জুতো পরে প্রবেশ নিষেধ, মাথার চুল পর্যন্ত ঢেকে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়। প্রত্যেকটি প্রবেশদ্বারে জুতো রাখার ও পা-ধোবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভারতের কিছু ধনী মন্দির

৯. মীনাক্ষী মন্দির (Meenakshi temple):

মীনাক্ষী মন্দির তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে অবস্থিত। তামিলনাড়ুর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হিন্দু মন্দির যা ভাইগাই নদীর পাশ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে। মন্দিরটি মাতা পার্বতীর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের একটি জনপ্রিয় পর্যটক স্থান এই মাদুরাই, মন্দিরটির বছরের আনুমানিক আয় ৬ কোটি টাকা।

১০. মহাবোধী (Mahabodhi):

বিহারের গয়া শহরে এই মন্দিরটি অবস্থিত। বুদ্ধ ধর্মাবলিদের সবচেয়ে বড় মন্দির হচ্ছে এই মহাবোধ মন্দির। এখনো পর্যন্ত এই বৌদ্ধ মন্দির আনুমানিক আয় ১০৬ কোটি টাকা, মন্দিরটি গৌতম বুদ্ধের জন্য বিখ্যাত। গৌতম বুদ্ধকে সিদ্ধার্থ গৌতম নামেও পরিচিত। পঞ্চদশ শতাব্দীতে গৌতম বুদ্ধ গয়া শহরের এই মন্দিরের কাছে এসে ধ্যানে মগ্ন হয়েছিলেন। তিনি যে গাছের তলায় ধ্যানে বসে ছিলেন সেটি একটি অশত্ব গাছ ছিল, বর্তমানে এই গাছটি কে বৌদ্ধ-ট্রি বলা হয়। এই গাছটি এখনো রয়েছে, মন্দিরের ভেতরে গেলে আপনি এই গাছটি দেখতে পাবেন। গৌতম বুদ্ধ এই অশত্ব গাছের তলায় বসে জ্ঞান লাভ করেছিলেন।

(Disclaimer: উপরে উল্লেখিত নিবন্ধটিতে সরবরাহ করা মন্দির গুলির তথ্য গুলি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত। এই ওয়েবসাইট কখনোই ১০০% নির্ভুলতা দেয়না।)

Leave a Reply