মঙ্গল গ্রহের মাটি হতে চলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে মুল্যবান বস্তু, দাম কত জানেন?

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা গত বেশ কয়েক বছর ধরেই মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম নাসা মার্স মিশন, যেখানে Parcivarence rovar মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালিয়ে লালগ্রহে প্রাণের সন্ধান করে চলেছে। শুধু তাই নয় সেখানকার মাটি, পাথর, বায়ুমণ্ডলের উপরেও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে নাসা। আর যত দিন যাচ্ছে মঙ্গল গ্রহে প্রতি মানুষের আগ্রহ ততোই বাড়ছে। হয়তো আগামী আর কয়েক বছরের মধ্যে সেখানে বসতিস্থাপনও হতে পারে, সে চেষ্টাতেও রয়েছে নাসা।

মঙ্গল গ্রহের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত গবেষনা করার জন্য নাসা মঙ্গল গ্রহের মাটি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে আনার চেষ্টায় রয়েছে। নাসার একটি joint space mission এর অন্তর্গত প্রকল্পে নাসা লাল গ্রহ সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য সামনে আনবে আগামী দিনে। যা জ্যোতির্বিদ্যার সাহায্য করবে মহাকাশ ও লাল গ্রহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে।

তবে মঙ্গলের মাটি পৃথিবীতে আনা খুব একটা সহজ কাজ নয়। মঙ্গলের এই মাটি পৃথিবীতে দুর্মূল্য। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২ পাউন্ড বা ১ কিলোগ্রাম মঙ্গলের মাটি পৃথিবীতে নিয়ে আসার খরচ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। যে খরচটা নেহাত কম নয়। সাধারণ ভাবে বলতে গেলে পৃথিবীর মূল্যবান ধাতু সোনার সমপরিমাণ মূল্যের ২ লক্ষ গুন বেশী মূল্য এই লালগ্রহের মাটির।

আরো পড়ুন-মঙ্গল গ্রহে INGENUITY-এর ষষ্ঠ উড়ান কতটা সফলতা পেয়েছে? জানালো নাসা

এই খরচও ওটাতে রাজি নাসা। আর যদি তা হয় তবে হয়তো আগামীতে পৃথিবীর সব থেকে মূল্যবান বস্তু হতে চলেছে এই Martian soil বা মঙ্গলের মাটি। এবার প্রশ্নটা হল নাসা কেন এত খরচ করছে মঙ্গলের মাটি পৃথিবীতে আনার জন্য। সেই প্রশ্নের উত্তরে নাসা একটি বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলের মাটি বিশ্লেষণ করে তার থেকে ancient Life এর হদিশ পাওয়া যায় কিনা সেটিই দেখতে চান।

নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলের মাটি সংগ্রহের কাজ শেষ হবে আগামী ২০২৩ সালে। তবে সেটি পৃথিবীতে নিয়ে আসতে সময় লাগবে আরো ১০ বছর। আর যেদিন মঙ্গলের মাটি পৃথিবীতে আসবে সেদিনই এটি হয়ে যাবে পৃথিবীর সবথেকে দুর্মূল্য বস্তু, আর তারপর থেকেই মহাজাগতিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন পথ উন্মোচিত হবে।

Leave a Reply