স্পেস এক্স মার্স সিটি মিশন। ইলন মাস্কের মিশন অধরাই থাকবে ভের্নার হের্ৎসগের মতে।

স্পেসএক্স মার্স সিটি মিশন: ভের্নার হের্ৎসগএর মতে অধরাই থেকে যাবে এলন মাস্কের মঙ্গলে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন।

বেসরকারি সংস্থা স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক আমাদের সৌরজগতের লাল গ্রহ, অর্থাৎ মঙ্গলে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। তবে খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক ভের্নার হের্ৎসগ তার এই পরিকল্পনাকে একেবারেই মানতে নারাজ। তার মিশনের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ একটি ভুল মাত্র। ভের্নার হের্ৎসগের ধারণায় মানুষকে কখনোই পঙ্গপালের ঝাঁক এর মত হওয়া উচিত নয়।

স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পস (Space Exploration Technologies Corps) সংক্ষেপে স্পেস এক্স হল আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থা; যেখানে মহাকাশযান প্রস্তুত করা হয়, এর সাথেই এখান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার হার্থনের সদরদপ্তরে মহাকাশ পরিষেবা প্রদান করে এই সংস্থা। বিশ্বের প্রথম সারির বিশিষ্ট ব্যক্তি ইলন মাস্ক ২০০২ সালে মঙ্গলগ্রহে বসবাসযোগ্য স্থান নির্মাণের উদ্দেশ্যে স্পেস এক্সের নির্মাণ করেন।

স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক মঙ্গলে বসবাস যোগ্য শহর নির্মাণের মিশন স্পেস এক্স মার্চ সিটি এর জন্য ২০২০ সালের মাঝামাঝি প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনামাফিক বর্তমানে বিকাশের অধীনে থাকা স্টার শিপ রকেটের মাধ্যমে তিনি মহাকাশচারীদের মঙ্গলে পাঠাবেন। তাদের মঙ্গলে পৌঁছানোর পরে সেখানে স্বাবলম্বী ও বহুগুণে উন্নত শহর স্থাপনের কাজ শুরু করে দেবেন তিনি। ইলন মাস্ক এ বিষয়ে আশাবাদী যে মোটামুটি ২০৫০ সালের মধ্যে সেখানে শহর গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন-ভয়েজার মিশন কি। মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় মহাকাশ মিশন

এলন মাস্ক মঙ্গলে বসতি স্থাপনের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী থাকলেও ভের্নার হের্ৎসগ এর মতে এই পরিকল্পনায় এক বিশাল ত্রুটি রয়েছে। হের্ৎসগ হলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি মাস্কের মঙ্গলে যাওয়ার কোনো রকম বিরোধিতা করেননি, তবে তার মতে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যামেরা ও বৈজ্ঞানিক দের সঙ্গে মঙ্গলে যেতে পছন্দ করবেন; সেখানে গিয়ে চলচ্চিত্রের প্রয়োজনের মতো ছবি তোলা যেতে পারে। তবে সেখানে বসতি স্থাপন করে বসবাস করার চিন্তা ধারা একটি বড় ভুল বলে মনে করেন তিনি। তিনি এও বলেন আমাদের উচিত নিজস্ব গ্রহ, অর্থাৎ পৃথিবীতে বসবাস করার দিকে আরো বেশি নজর রাখা উচিত অন্য কোন গ্রহের পরিবর্তে।

চলচ্চিত্র পরিচালক ভের্নার হের্ৎসগ’এর দৃষ্টিভঙ্গিতে লালগ্রহে বসবাসযোগ্য স্থান নির্মাণ কোন সমস্যার সমাধান নয়। মঙ্গল গ্রহ কোনোভাবেই স্থায়ী জায়গা হতে পারেনা বসবাসের জন্য। কারণ মঙ্গলে প্রাপ্ত জলের সমস্ত টুকুই রয়েছে বরফ অবস্থায়। তরল জলের অস্তিত্ব একেবারেই নেই। উদ্ভিদ না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের চিহ্নমাত্র নেই এই গ্রহে। সূর্য থেকে আগত রশ্মি সরাসরি প্রবেশ করার অর্থ হলো মাইক্রোওয়েভে থাকার মতই।

তবে এলন মাস্ক হের্ৎসগ কথার জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন ২০১৮ সালের গবেষণা অনুযায়ী মঙ্গলে প্রায় ১.২ মিলিয়ন জল বরফ আকারে পেয়েছিলেন তারা। উষ্ণতার মাধ্যমে গলিয়ে প্রয়োজনীয় জল লাভ করা সম্ভব লালগ্রহে। এছাড়া লালগ্রহের মাটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড। এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড উত্তাপের ফলে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসবে এবং তা ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে। তবে এসবই একটি থিয়োরি মাত্র। বাস্তবে বৈজ্ঞানিকরা এখনো প্রয়োগ করে দেখেননি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে কোন প্রমাণ তাদের কাছে নেই। মঙ্গলে বসবাস স্থাপন নিয়ে এ কারণে বহুবার বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন ইলন মাস্ক। পৃথিবীকে আরও উন্নত করার পরিবর্তে মঙ্গলে বসবাস স্থাপন করার লক্ষে ভের্নার হের্ৎসগের মতো আরো অনেকেই আছেন যারা তার সমালোচনা করতে ছাড়েনি। তবে মাস্ক তার মিশনে আশাবাদী এবং প্রতিটি সমালোচনার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত তিনি।

Leave a Reply