গ্রহাণু অপফিস। হতে পারে পৃথিবীর শেষ দিন

গ্রহাণু অপফিস (Asteroid apophis)

২০২০ সাল শুরু হওয়ার পর থেকে মানবজাতি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সেটা অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, ইন্দোনেশিয়ার ভয়ংকর বন্যা, ভারতে পঙ্গপালের আক্রমণ, আম্ফান সাইক্লোন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ও গত ৯মাস ধরে চলা পৃথিবী ব্যাপী মহামারী। এইসব বিপর্যয়ের পর আরও একটি দুঃসংবাদ অদূর ভবিষ্যতে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অপফিস গ্রহাণুকে নিয়ে, এই অপফিস গ্রহাণুটি পৃথিবীর সম্ভাব্য ২০২৯ সালে আঘাত আনতে চলেছে। হাওয়াই ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা জানিয়েছেন যে এই গ্রহনুটি পৃথিবীর খুবই কাছ দিয়ে যাবে, যার ফলে সেটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। গ্রহাণুর নাম মিশরীয় দেবতা কেয়শ ও ইভিল দেবতার নাম অনুসারে হয়েছে। গ্রহাণুটির নাম নাসা প্রথমবার ঘোষনা করেছিল ২০০৪ সালে যার সম্পূর্ণ নাম (99942apophis)। নাসার গবেষণার পর প্রায় ১৫০০-২০০০ গ্রহাণুকে সনাক্ত করেছিল। যার মধ্যে একটি অপফিস। এই ২০০০টি গ্রহাণু পৃথিবীর পক্ষে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয় তারই মধ্যে একটি অপফিস। যেটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে যাবে, গ্রহাণুটির আয়তন প্রায় ৪০০ মিটার বা তিনটে ফুটবল মাঠের সমান। 

অপফিস গ্রহাণুটি ২০০৪ সাল থেকে নাসার বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছে কারণ পৃথিবীর উপরে এর আঘাতের আশঙ্কা প্রায় ৩% এর কাছাকাছি যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে যথেষ্ট বড় সংখ্যা। এই গ্রহনুটি পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে মাত্র ৩২ হাজার কিলোমিটার উপর দিয়ে যাবে, এর ফলে আপনি খালি চোখে গ্রহাণুটিকে দেখতে পাবেন। পৃথিবীর একেবারে কাছ দিয়ে যাওয়ার ফলে যদি পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত নাও হয়, তবে পৃথিবীর আবর্তনকারি স্যাটেলাইট গুলির ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে। অপফিস নিয়ে নাসা সহ বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা গুলি গবেষণা করছে এবং গ্রহাণুটিকে বিশ্লেষণ পর্যন্ত করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় গ্রহাণুগুলি সম্পর্কে আরো ভালো তথ্য পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন- মহাকাশে খোঁজ পাওয়া গেলো সোনার খনির। নাসা আবিষ্কার করলো এমন এক গ্রহাণু যা সম্পূর্ণ সোনার তৈরি

ভবিষ্যতের নাসা গ্রহাণু গুলিতে খননকার্য চালাতে পারে এবং সেখানকার উপাদান পৃথিবীতে নিয়ে এসে পরীক্ষা করা হবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা এই সমস্ত গ্রহাণু এবং এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো পৃথিবীতে পাওয়া যায় না সেগুলো পাওয়া যেতে পারে। এখনো পর্যন্ত অপফিস সবচেয়ে বিপদজনক গ্রহাণু গুলির মধ্যে একটি। সাধারণত পৃথিবীর কাছ দিয়ে যে সমস্ত গ্রহাণু গুলি যায় সেগুলি পুনরায় পৃথিবীতে বা পৃথিবীর দিকে ফিরে আসে না। কিন্তু অপফিসের বেলায় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন ২০২৯ এর পর ২০৩৬ এবং ২০৬৮ সালে গ্রহাণুটি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রহাণুটি যদি পৃথিবীকে আঘাত করে তবে পৃথিবীর সেই অংশে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না সেটা বলাই যায়। কিন্তু পৃথিবীর সামান্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হবেনা গ্রহাণুটি যদি কোন এক মহাসাগরে গিয়ে পড়ে তবে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলিতে বিশাল আকারের সুনামি দেখা যাবে। 

আশার বিষয় এটাই যে নাসা ও স্পেসএক্স মিলে একটি প্রতিরোধ পদ্ধতি গড়ে তুলছে যার নাম (Double Asteroid redirect task) বা DART। এই কার্যক্রমকে ২০২২ সালে শুরু করার কথা। পৃথিবীতে অবস্থিত এই কার্যক্রমকে বাইরে থেকে আসা সমস্ত গ্রহাণু গুলির সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত বিবরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহাণুর বিবরণ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ নাসা বা অন্য কোন মহাকাশ সংস্থার কাছে গ্রহাণুর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। অপফিসের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী যদি কোনো পরিবর্তন না হয়, তবে এটি পৃথিবীতে কোন আঘাত করবে না। সম্প্রতি জ্যোতিষ বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী ২০৬৮ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসবে।

Leave a Reply