পৃথিবীর নিকটবর্তী সবচয়ে বৃহত্তম তারা সূর্যের পৃষ্ঠতল কেমন, কি দিয়ে তৈরি সূর্য

আমাদের গ্রহ অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র হলো সূর্য। এই সাধারণ সত্যটি উপলব্ধি করতে আমাদের হাজার হাজার বছর সময় লেগেছে। তবে এতটা সময় অতিবাহিত হলেও আজ আমরা জানতে পেরেছি যে আমরা যে সৌরজগতে থাকি তার মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তম বস্তুটি হল সূর্য। এটি সৌরজগতের ৯৯.৮ শতাংশ ভর ধারণ করে আছে। সূর্য কতটা পরিমাণ বড় এর থেকে বোঝা যায় যে একটি সূর্যের মধ্যে প্রায় ১০ মিলিয়ন পৃথিবীত এটে যাবে। পৃথিবীর ব্যাস এর তুলনায় সূর্য প্রায় ১০৯ গুণ বড়ো আকারের।

পৃথিবীর নিকটবর্তী সবচয়ে বৃহত্তম তারা

আকারে এত বড় একটি নক্ষত্রের ভিতর কতটা পরিমাণ শক্তি উৎপাদিত হয় তার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাসা জানিয়েছে – প্রতি সেকেন্ডে যদি ১০০ বিলিয়ন টন ডায়নামাইট বিস্ফোরণ করা হয় তাতে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয় ঠিক ততটাই শক্তি উৎপন্ন হবে সূর্য পৃষ্ঠের উপরে। সূর্যের দৃশ্যমান অংশে তাপমাত্রা ১০,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। মহাকাশে উপস্থিত ১০০ বিলিয়ন তারাদের একটি হলো এই সূর্য। যা অন্যান্য সমস্ত তারাদের তুলনায় কিছুটা কম বয়স্ক বলা চলে। 

৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয় এই নক্ষত্রটি। যার থেকে প্রতিনিয়ত সূর্যালোক পেয়ে চলেছি আমরা। সূর্যে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে নিউক্লিয়ার জ্বালানি যার কারণে এটি এতগুলো বছর সময় ধরে টিকে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ৫ বিলিয়ন বছর পর্যন্ত এটি এইরকমই থেকে যাবে। কিন্তু তারপরে এটি ধীরে ধীরে লাল হতে থাকবে, স্বাভাবিক ভাবে এর উপরে স্তরটি ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে সাদা এ পরিণত হবে। এমন একটা সময় আসবে যখন সূর্য তার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারাতে থাকবে। শেষ হতে থাকবে এতে থাকা জ্বালানি এবং শেষ পর্যায়ে গিয়ে এটি ঠাণ্ডা হয়ে একটি কালো বামন গ্রহের রূপ নেবে।

আরও পড়ুন- অন্যান্য গ্রহগুলি থেকে সূর্য ও সূর্যাস্ত দেখতে কেমন লাগে।

সূর্যের পৃষ্ঠতল কেমন, কি দিয়ে তৈরি সূর্য

হয়তো সূর্যপৃষ্ঠে গিয়ে তাতে অবস্থিত গ্যাস, আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের বহু বছরের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে সূর্যের পৃষ্ঠ, এতে থাকা গ্যাস ও উষ্ণতার ধারণা দিতে পেরেছেন। সূর্য একটি বিশাল বড় গ্যাসের গোলা। এতে রয়েছে ৭৪ শতাংশ হাইড্রোজেন এবং ২৩ শতাংশ হিলিয়াম গ্যাস, আমাদের পৃথিবীতে যে সমস্ত উপাদান গুলি আমরা চিনি তার ৩ শতাংশ হল সূর্যের অবশিষ্ট গ্যাস। যার মধ্যে রয়েছে কার্বন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই সমস্ত গ্যাসের কারণে সূর্যে প্রায় ৪০০ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ওয়াট শক্তি উৎপন্ন হয় যার কিছুটা আলোক রস্মি হিসেবে পৃথিবীতে এসে পড়ে এবং আমাদের গ্রহকে বাসযোগ্য করে তোলে। 

সূর্য অনেকগুলি স্তর দ্বারা নির্মিত, সূর্যের কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠ পর্যন্ত দুটি  জোন, একটি রেডিয়েটিভ জোন অপরটি কনভেটিভ জোন। সূর্যের উপরে পৃষ্ঠতল কে বলা হয় ফটোস্ফিয়ার। এই স্তরটি সূর্যের বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এই স্তর থেকে আগত আলোক রশ্মি আমরা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দেখতে পাই। এই স্তরটি প্রায় ৩০০ মাইল (৫০০ কিলোমিটার) পুরু। সূর্য পৃষ্ঠের এই অঞ্চলটির তাপমাত্রা ১১,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ৭,৪৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ থেকে একটি সাধারণ ধারণা জন্মেছে যে সূর্য কতটা পরিমাণ উত্তপ্ত। সূর্যের উপরের স্তরটি কঠিন নয়, এটি গ্যাস ও তরল দ্বারা নির্মিত। একটি পাত্রে ফুটন্ত জল যেমন ঠিক তেমনি সূর্য পৃষ্ঠ টিও দেখতে। 

সূর্য অন্যান্য নক্ষত্র গুলি কিভাবে রয়েছে, কি চলছে নক্ষত্র গুলির অভ্যন্তরে তা জানার জন্য নাসা (NASA) ১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ৮ টি অর্বিটিং অবজারভেটরি মহাকাশে পাঠায়, যেগুলো অর্বিটিং সোলার অবজারভেটরি (Orbiting Solar Observatory) নামে পরিচিত। এই ৮ টির মধ্যে ৭টি সফলভাবে অতিবেগুনি রশ্মি ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে সূর্যের বিশ্লেষণ করতে এবং এর ছবি তুলতে সক্ষম হয়।

Leave a Reply