চন্দ্রযান-৩ মিশন ও চীনের চ্যাং-৫ কে আগে চাঁদে পৌছবে

চন্দ্রযান-৩ মিশন: বর্তমানে ভারত ও চীনের মধ্যে যথেষ্ট বিবাদ রয়েছে যা লাদাখে ভারত ও চীন সীমান্ত থেকে শুরু হয়। এরপর সেই সংঘাত আরো জোরালো হয় ভারতের ডিজিটাল স্ট্রাইক এর মাধ্যমে। কিন্তু এখন সেটা মহাকাশ বিজ্ঞানেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ভারতের চন্দ্রযান-২ মিশন বিফল হওয়ার পর থেকেই চীন নিজের চ্যাং-৫ মিশনটির উপর জোর দিয়েছে। সংবাদ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী চায়নার আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা এই বছরের শেষের দিকে মিশনটি লঞ্চ করবে।

চীনের চ্যাং-৫ মিশন চ্যাং-৫ মিশন অনুসারে রোভরটি চাঁদে হালকা অবতরনের মাধ্যমে চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে এবং কিছু পরিক্ষা মুলক তথ্য সংগ্রহ করে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবে। চীনের এই মিশনটিতে মোট ৩টি পর্যায় রয়েছে, চাঁদের কক্ষপথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করা, হালকা অবতরণ ও পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসা।   

চন্দ্রযান-৩ মিশন(ISRO) ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা চন্দ্রযান-৩মিশনটি ২০২১ সালে লঞ্চ করবে। চন্দ্রযান-৩ ছাড়াও ইসরো ২০২২ সালে সম্ভাব্য মিশন যার নাম ‘গগনযান‘, সেটি নিয়েও ব্যাস্ত আছে। প্রসঙ্গত গতবছর ইসরোর চন্দ্রযান-২ মিশনটি ব্যর্থ হয়েছিল। চন্দ্রযান-২ মিশনটি বিফল হওয়ার প্রধান কারণ যেটা মনে করা হয় তা হলো, চন্দ্রপৃষ্ঠে খুব দ্রুত অবতারণ যার ফলে চন্দ্রযান-২ এর রোভরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এরপর বহু প্রচেষ্টার পরও রোভর বিক্রম এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। চন্দ্রযান-৩ এ যাতে পুনরায় সেই ভুল না হয় সেদিকে ইসরোর বিজ্ঞানীরা নজর রেখেছে। ২০২১ সালে চন্দ্রযান-৩ যদি ইসরো সফল হতে পারে তবে, আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের পর ভারতের নাম আসবে চন্দ্রপৃষ্টে অবতরনের দিক থেকে। মিশনটির জন্য মোট খরচ হবে ৬০০ কোটি টাকা যার মধ্যে শুধুমাত্র লঞ্চের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে।    

এই মিশনটিতেও একটি রোভর থাকবে, যেটি চাঁদে অবতরণের পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবে। চন্দ্রযান-২ এর অরবিটার গতবছর লঞ্চ করা হয় এবং এর মেয়াদকাল ১বছর ছিল। কিন্তু চন্দ্রযান-৩ এর জন্য অরবিটার এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, বলা হচ্ছে অরবিটারটি ৩ বছর কাজ করতে সক্ষম। আজকের সময় অনুযায়ী অরবিটারটি ৭বছর চাঁদকে সফল ভাবে পরিক্রমা করবে বলে মনেকরা হচ্ছে। চন্দ্রযান-৩ এর সাথে অরবিটারের যোগাযোগে যাতে কোনরকম সমস্যা না হয়, সেই কারণে অরবিটারের প্রোগ্রামে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন- বর্ধমানের বাঙালি ছেলে সৌম্য দত্তর তৈরি প্যারাসুটে করেই মঙ্গলে অবতরণ করবে নাসার মার্স২০২০রোভার।

চন্দ্রযান-৩ মিশন(ISRO), মিশনটির লক্ষ্য চন্দ্রযান-৩ মিশনটির লক্ষ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ ভাগকে গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করা। এখনো পর্যন্ত চাঁদের দক্ষিণ ভাগে কোন দেশ অবতরণ করতে পারেনি, চন্দ্রযান-৩ এর মাধ্যমে ভারত প্রথম চাঁদের দক্ষিণ অংশের তথ্য সংগ্রহ করবে। বিজ্ঞানীদের অনুমান চাঁদের দক্ষিণ ভাগের ছোট ছোট গর্ত গুলিতে জল বরফের আকারে আকারে অবস্থান করেছে। মিশনটিতে ইসরোর সবচেয়ে ভরসাযোগ্য রকেট জিএসএলভি মার্ক-৩ ব্যবহৃত হবে। এই রকেট এর বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, এখনো পর্যন্ত ইসরোর ৪টি মিশন সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এই রকেটের মাধ্যমে। সম্ভবত ২০২২ সালের গগনযান মিশনটিতেও gslv-3 রকেটটি ব্যবহৃত হবে যেটা ইসরোর সর্বপ্রথম মানব মিশন হতে চলেছে।   

ভবিষ্যতে মানুষ যাতে চন্দ্রপৃষ্ঠে আস্থানা গারতে পারে সেই কারণে বিভিন্ন দেশ চাঁদে নিজেদের মিশনকে চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে চাঁদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহাকাশে থাকবার এখনো পর্যন্ত একটি জায়গা হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, বিজ্ঞানীরা চাইছে চাঁদে নিজেদের ঘর বানাতে। যাতে স্থায়ীভাবে চাঁদে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া যায়। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণা বা মঙ্গলে মানব যাত্রার জন্য চাঁদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply