চীন তৈরি করলো পারমাণবিক শক্তিযুক্ত ‘কৃত্রিম সূর্য’। এটির তাপমাত্রা সূর্যের থেকে ১০ গুণ বেশি

কৃত্রিম সূর্য: আমাদের সৌরজগতের সূর্য এমন এক নক্ষত্র যার কারণে সৌরজগতের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে। পৃথিবীতে প্রাণ টিকে থাকাটা অসম্ভব কেবলমাত্র সূর্যের কারণেই। সেই সূর্য এবার পৃথিবীর কিছু বিজ্ঞানীরা মিলে তৈরি করে ফেললেন কৃত্রিমভাবে। চীনের বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরী এই কৃতিম সূর্যের তাপমাত্রা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা থেকে ১০ গুণ বেশি। কিভাবে তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা এই কৃত্রিম সূর্য। সূর্যের পরিবর্তে আমাদের পৃথিবীতে নতুন এই সূর্য জায়গা করতে পারবে? ভবিষ্যতে কি তবে আমরা নতুন কোনো সূর্য দেখতে চলেছি? চলুন এই বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক কি এই কৃত্রিম সূর্য।

পারমাণবিক শক্তিযুক্ত কৃত্রিম সূর্য:

কৃত্রিম সূর্য আসলে কোন সূর্যের মতো দেখতে নক্ষত্র নয়। এটি একটি পারমাণবিক চুল্লি। চীনে অবস্থিত সবথেকে বড় এবং সবথেকে বেশি উন্নত পারমাণবিক ফিউশন পরীক্ষামূলক গবেষণা ডিভাইস চুল্লি যেটির নাম HL-2M TOKAMAK (এইচ এল-২ এম টোকামক)। বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবিষ্কৃত এই চুল্লিতে পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনে সক্ষম যা সূর্যের তাপ উৎপাদন এবং সূর্যের মতো শক্তি প্রদান করে।

এই পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহার করা হয়েছে চৌম্বকীয় শক্তির। এই চুম্বকীয় ক্ষেত্র কে ব্যবহার করে গরম প্লাজমা ফিউজ করা হয়। এই প্লাজমা ফিউজ করার ফলে এটিতে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এই তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে এটিকে সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা চেয়ে আরো ১০ গুন বেশি তাপ বলে বর্ণনা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ানে তৈরি হয় এই পারমাণবিক চুল্লিটি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে নির্মাণকার্য সম্পন্ন হয় এটির। নতুনভাবে নির্মিত এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এদিকে এত পরিমান তাপ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সূর্যের থেকেও বেশি তাপ উৎপাদন হওয়ায় এটিকে কৃত্রিম সূর্য বলা হয়ে থাকে। যদিও বা এটি সূর্যের জায়গা নিতে পারবে না। তবে এটির ক্ষমতা একটি সূর্যের মতো শক্তিশালী।

আরও পড়ুন-চীন দ্বারা নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ

কৃত্রিম সূর্য বা পারমাণবিক চুল্লিতে নির্মাণে যেসব সুবিধা গুলি হবে:

পারমাণবিক চুল্লিটি তৈরি করার ফলে চীনে জ্বালানির সমস্যা দূর হবে। এত পরিমান শক্তি এই পারমাণবিক চুল্লিতে রয়েছে যে আগামী দিনে চীনের অর্থনীতিতে অনেকটাই প্রভাব ফেলবে এই চুল্লি। বর্তমানে ব্যবহৃত জ্বালানি গুলি ব্যাবহার করা হয় তা পরিবেশের ক্ষতি করছে অনেকটাই। তবে এই পারমাণবিক চুল্লি থেকে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হচ্ছে সেটিতে পরিবেশের উপর দূষণের প্রভাব অনেকটাই কম করবে। ২০০৬ সালে এটির একটি ছোট সংস্করণ তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্রান্সে তৈরি করতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম পারমাণবিক ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রটি, যা তৈরিতে সাহায্য করবে আন্তর্জাতিক তাপবিদ্যুৎ পরীক্ষামূলক গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। আগামী ২০০২ সালের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে পারমাণবিক ফিউশন গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণের কাজ।

এইচ এল-২ এম টোকামক নির্মাণের ফলে পৃথিবীতে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি ভবিষ্যতে কোনো না কোনো দিন শেষ হয়ে যাবে। এমন একটি সময় উপস্থিত হবে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি থাকবে না। সেই সমস্যার সমাধান করতেই সম্পূর্ণরূপেই পারমাণবিক চুল্লি উপযুক্ত। যদিও এটিকে কৃত্রিম সূর্য নাম দেওয়া হয়েছে তবে এটি কোনোভাবেই আমাদের সূর্যকে পরিবর্তন করে ব্যবহৃত হবে না। সূর্যের মতো শক্তি উৎপাদনে সম্ভব এই চুল্লি জ্বালানির অভাব কে দূর করবে। চুল্লি থেকে উৎপন্ন শক্তির সাথে অনেকটাই পরিবেশ দূষণ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছে চীন। আগামী দিনে কৃত্রিম চাঁদ লঞ্চ করবে বলে জানিয়েছে চীন, যেটি চাঁদের থেকে অনেকগুণ বেশি আলো দেবে। পরিবর্তন করবে রাস্তার আলোর বাতি গুলিকে।

Leave a Reply