মেঘালয়ের গ্লোয়িং মাশরুম। ভারতে পাওয়া গেল আলোকিত মাশরুমের নতুন প্রজাতি

খাদ্যবস্তু হিসাবে মাশরুম সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশেই মাশরুম খাওয়া হয়ে থাকে। বিশ্বে হাজারো রকমের মাশরুম পাওয়া যায়। যার মধ্যে অল্প কিছু প্রজাতি খাদ্যতালিকায় পড়ে। বাকিগুলি খাওয়ার অযোগ্য। কিছু কিছু মাশরুম ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। শুধু যে প্রাকৃতিক ভাবে বনে জঙ্গলে এগুলি পাওয়া যায় তা নয়। এর সঙ্গে সঙ্গে নানা দেশে বিপুল পরিমাণে এর চাষ করা হয়ে থাকে। ভারতেও এরকম মাশরুম চাষ হয়ে থাকে যার মধ্যে বাটন মাশরুম এবং ওয়েস্টার মাশরুম জনপ্রিয়। এছাড়াও ভারতের নানা অরণ্যে রয়েছে আরো কত জানা অজানা মাশরুমের প্রজাতি।

বন্য এই সমস্ত অজানা প্রজাতির মাশরুম নিয়ে গবেষণাও করা হয়ে থাকে। এই সমস্ত গবেষণার জন্য গবেষকরা পাড়ি দেন নানা অরণ্যে। এরকমই গবেষণা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সম্প্রতি ভারতের মেঘালয়াতে খোঁজ মেলে অদ্ভুত এক রকমের আলোকিত মাশরুমের। মেঘালয়ের বাঁশবনে এই মাশরুম গুলি রাত্রিবেলায় আলোকিত হয়ে থাকে। যেমন কিছু কিছু পতঙ্গের শরীর প্রাকৃতিক ভাবে আলো জ্বালাতে সক্ষম ঠিক তেমনি মাশরুমগুলো অন্ধকারে উজ্জ্বলভাবে জ্বলতে থাকে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা এই মাশরুম গুলিকে ইলেকট্রিক মাশরুম বলে থাকে। বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত প্রজাতির মাশরুম গুলির নাম রেখেছেন রোরিডোমাইসেস ফাইলোস্টেসাইডিস। প্রথম বার এই গ্লোইং মাশরুম মাশরুম দেখা গেছিল মেঘালয়র খাসি হিলস জেলায়। আর দ্বিতীয়বার এগুলি দেখা পাওয়া যায় মেঘালয়ের আরেক জেলা ওয়েস্ট জয়ন্তিয়া হিলসে। বর্তমানে এই প্রজাতির মাশরুম থেকে বিশ্বের ৯৭ টি প্রজাতির বায়োলুমিনিসেন্স ফাঙ্গাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   

আরও পড়ুন – চীন তৈরি করলো পারমাণবিক শক্তিযুক্ত ‘কৃত্রিম সূর্য’

বায়োলুমিনিসেন্স ফাঙ্গাস কী? –  বায়োলুমিনিসেন্স হলো সেই সমস্ত মাশরুম বা ফাংগাস যা আলোর উৎপত্তি ঘটাতে সক্ষম। যে সমস্ত উদ্ভিদ বা জীব কোন রকম উত্তাপ ছড়াই রাসায়নিক বিক্রিয়া গত কারনে আলো তৈরি করতে পারে সেই সমস্ত উদ্ভিদ বা জীব বায়োলুমিনিসেন্স এর অন্তর্গত বলা হয়। এই বায়োলুমিনিসেন্স প্রজাতির অর্থাৎ রাত্রিবেলায় আলোকিত থাকে এরকম মাশরুম সারা বিশ্বজুড়ে মাত্র ৯৭ টি প্রজাতির রয়েছে যার মধ্যে বর্তমানে এই প্রজাতি যোগ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে আসামের একটি এনজিওচাইনিজ অ্যাক্যাডেমি অফ সাইন্স এর সাথে একত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের চারটি রাজ্যের ফাঙ্গাসের জীব বৈচিত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করে।   

এই চারটি রাজ্য হল মেঘালয়, সিকিম, আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশ। গবেষকরা মেঘালয়ের গ্রামবাসীর কাছ থেকে ওখানকার অদ্ভুত ইলেকট্রিক মাশরুমের খোঁজ পায়।  তবে অদ্ভুত বিষয় এটা যে সারা বিশ্বজুড়ে যে ৯৭ প্রকার বায়োলুমিনিসেন্স ফাঙ্গাস প্রজাতি পাওয়া যায় এটা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অন্যান্য ক্ষেত্রে সেগুলি নীল, সবুজ, বেগুনি রংয়ের কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে মাশরুমের উপরের ছাতার মতো অংশটি আলোকিত থাকে অথবা পুরো মাসুমকে আলোকিত থাকে কিন্তু ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পাওয়া এই মাশরুম গুলির শুধুমাত্র লম্বা দেহটি জ্বলতে দেখা যায়। এই মাশরুম গুলির ক্ষেত্রে ওপরের ছাতা টি আলোকিত হয় না। এই ঘটনাটি গবেষকদের কাছে বেশ চমকপ্রদ।

ভারতে পাওয়া এই অদ্ভুত মাশরুমকে নিয়ে বর্তমানে গবেষণা চলছে। কোন বিশেষ গুনাগুন আছে কিনা তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। নতুন এক মাশরুমের প্রজাতি যা একমাত্র মেঘালয়ে পাওয়া গিয়েছে। এটি ভারতবাসীর কাছে একটি আনন্দের বিষয়। 

Leave a Reply