লেপাকসি মন্দির। মন্দিরে প্রধান স্তম্ভ টি রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়

লেপাকসি মন্দির: লেপাকসি মন্দিরটি রয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের অনন্তপুর জেলায়। ১৬০০ শতকে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। অন্ধপ্রদেশের এই মন্দিরটি ভারত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব সংস্থা দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভারতবর্ষে যত মন্দির আছে সেগুলি প্রত্যেকটি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত। সেরকমই এই মন্দিরটির নিজস্ব বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

লেপাকসি মন্দিরটি ঝুলন্ত স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত এই মন্দিরটি আসল নাম হল বীরভদ্র মন্দির। মন্দিরটি যে জায়গায় অবস্থিত সেই জায়গাটির নাম হল লেপাক্ষী। নামকরণ হওয়ার কারণ হল পুরান তথ্য অনুযায়ী রামায়ণ কালে শ্রী রাম, সীতা মাতা ও শ্রী লক্ষণ যখন বনবাসে গিয়েছিল, তখন রাবণ যখন সীতাকে হরণ করে লঙ্কার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল সেই সময় জটায়ু রাবন কে বাধা দেয়।

আরও পড়ুন- তাজমহল নির্মাণের ইতিহাস। কিভাবে ও কত দিন ধরে নির্মাণ করা হয় তাজমহল।

জটায়ু ও রাবণের যুদ্ধের পর যখন জটায়ু আহত হয়ে মাটিতে পড়ে ছিল। শ্রী রাম যখন আহত জটায়ুর কাছে আসে তখন, আহত জটায়ু কে দেখে শ্রী রাম জটায়ু কে নিজের কোলে তুলে নেয় এবং লে-পাকসি বলে সম্মধন করে। লেপাকসি একটি তেলেগু ভাষা যার অর্থ ওঠোপাখি। তখন থেকেই সেই স্থানের নাম হয় লেপাকসি।

লেপাকসি মন্দিরের ঝুলন্ত স্তম্ভের রহস্য

লেপাকসি মন্দিরের প্রধান যে স্তম্ভটি রয়েছে সেটি রয়েছে সম্পূর্ণ ঝুলন্ত অবস্থায়। মন্দিরের মেঝের সাথে স্তম্ভটির ১/২ ইঞ্চির ফাঁক বা শূন্যস্থান রয়েছে। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্তরা আসে এবং একটি কাপড় কে তারা এই শূন্যস্থানের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায়। অনেকেই এটিকে কৌতূহলবশত পরীক্ষা করতে এবং অনেকেই মনে করেন ঝুলন্ত স্তম্ভের মধ্যে দিয়ে কোনো কাপড় কে নিয়ে গেলে পরিবারের মঙ্গল হয়।

শোনা যায় ব্রিটিশ শাসনকালে ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার এই রহস্যময় স্তম্ভের পরীক্ষা করতে আসে। তিনি তখন একটি লোহার রড কে এই স্তম্ভের তলায় দিয়ে বল প্রয়োগ করে। তখন আশেপাশের সমস্ত স্তম্ভের মধ্যে ফাটল ও কম্পন দেখা দেয়। সেই কারণে ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ বন্ধ করে ফিরে যেতে হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই স্তম্ভ রহস্যের মধ্যে রয়েছে। ঝুলন্ত স্তম্ভের উচ্চতা ৮ ফুট।

লেপাকসি মন্দিরের অদ্ভুত একটি পদচিহ্ন

ঝুলন্ত স্তম্ভ ছাড়াও মন্দিরে একটি পায়ের ছাপ উপস্থিত রয়েছে। এই পায়ের ছাপ অনেকেই মনে করেন ভগবান শ্রী রামের পায়ের ছাপ, আবার একশ্রেণীর মানুষ এটিকে মাতা সীতার পদচিহ্ন বলে মনেকরে।

মন্দিরের থেকে একটু দূরে একটি শ্বেত নাগ এর মূর্তি রয়েছে। স্থানীয় এক শিল্পী আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে এই মূর্তি নির্মাণ করেছিল বলে মনে করা হয়। মন্দিরে একটি শিবলিঙ্গ উপস্থিত রয়েছে। এই শিবলিঙ্গ ভগবান শিবের বীরভদ্র অবতার বলা হয়।

এছাড়া হলে লেপাকসি জায়গাটি একটি নন্দি বা ষাঁড়ের মূর্তির জন্য বিখ্যাত। এটি পৃথিবীর অন্যতম বড় নন্দি মূর্তি বলে মনে করা হয়। এই নন্দি বা ষাঁড়ের মূর্তিটি একটি মাত্র পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক প্রতিবছর এই জায়গাটিতে আসে, জায়গাটিতে একটি বড় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

Leave a Reply