বিংশ শতাব্দীর দিকে বাচ্চাদের ডাকের মাধ্যমে পেরণ করা যেত একজায়গা থেকে অন্য জায়গায়

বাচ্চাদের ডাকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হতো একসময় হ্যা এরকম ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আছে। বর্তমানে আমরা স্মার্ট মোবাইল এর মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় বার্তা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে পারি। শুধু মেল নয় বার্তা পাঠানোর জন্য এখন আমাদের কাছে অনেক মাধ্যম উপলদ্ধ রয়েছে।

বর্তমান যুগেও আমরা ডাকঘর বা পোস্ট অফিসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। এর মাধ্যমে আজকের দিনেও আপনি আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস আদান-প্রদান করতে পারবেন।

কিন্তু বিংশ শতকের শুরুর দিকে আমেরিকায় ডাক ব্যবস্থা চালু থাকলেও ভারী পার্সেল আদান-প্রদানের কোন ব্যবস্থা ছিলনা। ১৯১৩ সালের শুরুতে আমেরিকাতে প্রথম ভারী পার্সেল প্রেরণ করার ব্যবস্থা চালু হয়। এই ব্যবস্থা চালু করার পর কৃষক, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পেরণ করত।

এর সুযোগ নিয়ে কিছু মা-বাবা তাদের বাচ্চাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতে থাকে। ১৯১৩ সালে আমেরিকার বাচ্চা দের ডাকের মাধ্যমে পেরণ করা কোন রকম আইন বিরুদ্ধ কাজ ছিল না। কোন মা-বাবা যদি মনে করত তাদের সন্তানকে তাদের পরিবারে আত্মীয় বা পরিজনের কাছে পাঠাবে। তবে তাদেরকে ডাকঘরের সঙ্গে কথা বলতে হতো এবং ডাকঘর বাচ্চাদের গায়ে একটি স্ট্যাম্প লাগিয়ে দিত ও বাচ্চাদের কাছে একটি চিঠি থাকতো। যেখানে তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা, কোথায় বাচ্চাটিকে পাঠানো হচ্ছে তার বিবরণ থাকত। যাতে বাচ্চাটি কোথাও হারিয়ে গেলে তার পরিচয় জানা যায়।

আরও পড়ুন- প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তশ্চর্যের এক আশ্চর্য আলেকজান্দ্রীয় বাতিঘর

কোন একটি বাচ্চাকে পাঠাতে হলে তার পরিবারকে ১৫ সেন্ট খরচা করতে হতো। তখন টাকার পরিমাণ নির্ধারণ হতো বাচ্চাটির ওজনের উপর ওজন বেশি হলে টাকা বেশি দিতে হতো। রেলপথে ব্যবস্থা থাকলেও তা ছিল খরচা সাপেক্ষ, ডাক ব্যবস্থায় খরচ অনেক কম ছিল। সেই কারণে পরিবারের লোকেরা ডাক ব্যবস্থার মাধ্যম ব্যবহার করত।

তৎকালীন বিভিন্ন খবরের কাগজে এইরকম ৭-৮ টি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে বিভিন্ন পত্রিকা এর বিরোধীতা করতে থাকে। কারণ বহু ক্ষেত্রে ডাক ব্যবস্থার গাভিলতির কথা প্রকাশ্যে আসে। বাচ্চাদের ব্যাগে করে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবিও প্রকাশ্যে আসে। একটি সংবাদপত্রের খবরে আরও একটি ঘটনা সামনে আসে যেখানে বলা হয়, যে সমস্ত বাচ্চাদের ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেইসব বাচ্চাদের ঠিকমত খাবার দেওয়া হতো না। বিশেষ করে লম্বা যাত্রা পদগুলিতে যে সমস্ত বাচ্চা দের নিয়ে যাওয়া হত।

এর পর সংবাদপত্র গুলি এই নিয়ে নিবন্ধ লেখে এবং বিরোধিতা করে। তারা বলে যে বাচ্চারা কোন বস্তু নয় যে তাদের প্যাকেটে করে, বাক্সের মধ্যে ভরে নিয়ে যাওয়া যায়। তাদের যাত্রার সময় খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার। এরপরে ১৯২০ সালের দিকে আমেরিকায় ডাকঘর ও ব্যক্তিগত পার্সেল সংস্থা গুলিকে প্রশাসনের তরফ থেকে বাচ্চাদের ডাকের মাধ্যমে পেরণ করা কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

ইন্টারনেটে যদি আপনি সার্চ করেন তবে ব্যাগে ঝোলানো বাচ্চা বা অপর যে ছবিটি দেখতে পাবেন তা অবশ্যই আসল ছবি নয়। ছবি গুলি হয়ত সোশ্যাল মিডিয়া বা রসিকতার জন্য তোলা হয়েছে।

Leave a Reply