চলচ্চিত্রের সূচনা কাল, কিভাবে সৃষ্টি হল হলিউডের

চলচ্চিত্রের সূচনা কাল: চলচ্চিত্র অর্থাৎ সিনেমা বর্তমান যুগে বিনোদনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। অবসর সময় কাটাতে, মন ভালো রাখতে একটি ভালো সিনেমা বা চলচ্চিত্রই যথেষ্ট। চলচ্চিত্র থেকে শিক্ষা, অতিরঞ্জিত কল্পনা, বাস্তব সম্পর্কিত কাহিনী ও নানা বিষয়ে বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন সম্ভব। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির বিকাশ অতিমাত্রায় হওয়ার কারণে প্রাচীন চলচ্চিত্রগুলি থেকে বর্তমানে তৈরি চলচ্চিত্রগুলির মাত্রা অনেক বেশি আলাদা। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর চলচ্চিত্রগুলি দর্শকদের নিয়ে যায় এক অন্য জগতে যা বাস্তবে কখনো কল্পনা করা যায় না। মনোরঞ্জনের এই মাধ্যম চলচ্চিত্র কিন্তু শুরু থেকেই এমন ছিলনা, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস।

চলচ্চিত্রের সূচনা কাল

চলচ্চিত্র শব্দটির দিকে একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে খুঁজে পাওয়া যাবে এর নামের অর্থ। “চলচ্চিত্র” অর্থাৎ চলমান-চিত্র থেকেই শব্দটি এসেছে। ইংরেজি শব্দ “মুভি” (movie) শব্দটিও মুভিং পিকচার বা মোশন পিকচার থেকে আগত। চলচ্চিত্রের সূচনা কবে থেকে তা নির্ণয় করা হয়তো সম্ভব হয়নি, তবে প্যারিসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলা যায় ১৮৯৫ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর তারিখটি চলচ্চিত্রের সূচনা দিন। এই দিনটিতেই প্রথমবারের জন্য দশটি ছোট ছোট চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল লুমিয়ে ভ্রতৃদয় দ্বারা।

লুমিয়ে ভ্রতৃদয় দ্বারা প্রদর্শিত এই চলচ্চিত্র যদি প্রথম নাও হয়ে থাকে, তবে এর পূর্বের চলমান চিত্রগুলি হয়তোবা ছিল খুব নিম্নমানের অথবা সেগুলি এই চলচ্চিত্রের মতো সারা বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারেনি দর্শকদের মধ্যে। লুমিয়া ভ্রাতৃদ্বয় কারা প্রচুর সফলতা অর্জনের প্রায় এক দশকের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায় প্রচুর চলচ্চিত্র নির্মাণের কোম্পানি। যারা চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকে একে একে। এর পর থেকেই সম্ভবত বিনোদন জগতে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটে। 

আমরা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যে চলচ্চিত্রগুলি বড়পর্দায় দেখি, তার সবকটি রঙিন ও নানা প্রয়োগ কৌশলীর দ্বারা নির্মিত। তবে একেবারে গোড়ার দিকে চলচ্চিত্রগুলো ছিল সাদা-কালো, নির্বাক ও অতি অল্প দৈর্ঘ্যের। সেসময় চলচ্চিত্রগুলি দৈর্ঘ্য এক মিনিটেরও কম ছিল। একেবারে প্রথম পর্যায় চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। এর পরে আসে সবাক চলচ্চিত্র তারও পরে তৈরি হয় রঙিন সিনেমা। ১৮৯৮ সালে তৈরি হয় প্রথম ঘূর্ণায়মান ক্যামেরা। এর আগের বছর অর্থাৎ ১৮৯৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল প্রথম ফিল্ম স্টুডিও। ঘূর্ণায়মান ক্যামেরাগুলির সাথে যোগ হতে থাকে স্পেশাল ইফেক্ট, ছবিগুলির অবিচ্ছেদ্যতা, উন্নত হতে থাকে চলচ্চিত্রগুলির মান এবং ধীরে ধীরে প্রদর্শিত হতে শুরু হয়ে যায় ফ্লিম স্টুডিও গুলিতে।

সময়ের সাথে সাথে চলচ্চিত্রের মান, দৈর্ঘ্য ও কাহিনীতে অনেক পরিবর্তন আসতে থাকে। ক্লোজআপ শট অর্থাৎ কাছ থেকে চিত্রগ্রহণ, চলচ্চিত্রের শেষে অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম লেখা, কৃত্রিম আলোতে চিত্রগ্রহণ, কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে আগুনের প্রদর্শন, আলো কমানো বাড়ানোর মাধ্যমে ভয়ের দৃশ্যের পরিবেশ সৃষ্টি এসব কিছু যোগ হতে থাকে ১৯০০ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যেই। চলচ্চিত্রে যে সমস্ত গল্প বা কাহিনী দেখানো হতো তা দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য লেখক নিযুক্ত করা শুরু হয় এরপর। লেখক বা বিশেষজ্ঞরা বই ও উপন্যাসের গল্প গুলি ছোট, সহজ-সরল ভাষায় রচনা করতে থাকেন। যাতে সেগুলি দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং একটি রিলের মধ্যেই তাকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়। 

বর্তমান চলচ্চিত্র জগতের প্রধান প্রাণকেন্দ্র “হলিউড“, সেটা সকলেরই জানা। এই হলিউডের সূচনা হয়েছিল এই সময়কাল থেকেই। মার্কিন চলচ্চিত্রে ডি ডাব্লিউ গ্রিফিথ প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস শহরের প্রান্তে হলিউড নামে সকলের পরিচিত জায়গায় চলচ্চিত্রের প্রথম শুটিং শুরু করেছিলেন। এরপর থেকেই ১৯২০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান পায় এই চলচ্চিত্র তৈরীতে, যা এখনো পর্যন্ত একই এভাবে বিদ্যমান রয়েছে। 

Leave a Reply