অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস। কিভাবে, কোথা থেকে সূচনা অলিম্পিক গেমসের

অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস: সারা বিশ্বজুড়ে যত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অলিম্পিক গেমস। খেলাধুলায় নিজের দক্ষতা কে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ এটিই। বর্তমানে ২০৫ টি দেশ নিয়ে অনুষ্ঠিত এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতাই নির্ধারণ করে বিশ্বের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার দের। সারা বিশ্বজুড়ে বাছাই করা খেলোয়ার দের নিয়ে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসের সূচনা কাল আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে। সেই সময় থেকে চলে আসছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

অলিম্পিক গেমসের সূচনা

আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে অলিম্পিকের সূচনা। তবে এটি পুনরায় পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে ১৯ তম শতাব্দীর শেষের দিকে। অলিম্পিয়াতে প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হতো এই প্রতিযোগিতা। ঈশ্বর জিউসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে পেলোপনিজ উপদ্বীপের পশ্চিমে অলিম্পিয়াতে অষ্টম শতাব্দী বি সি থেকে চতুর্থ শতাব্দী এ ডি পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা সূচনাকাল। প্রথম অলিম্পিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭৭৬ বি সি তে। তবে তা আধুনিক অলিম্পিকের মত ছিলনা। এটি ছিল প্রথম লিখিত অলিম্পিক, কারণ এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের জন্য একজন রাঁধুনি একমাত্র ছিলেন যিনি ১৯২ মিটার ফুট্ রেস যাকে সেই সময় বলা হতো “স্টেড” (আধুনিক সময় যাকে আমরা স্টেডিয়াম নামে চিনি) এর ইভেন্টে জয়লাভ করেছিলেন। এই রাঁধুনি অর্থাৎ কুক এর নাম ছিল করিয়েবাস (caroebus)। যদিও লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে ক্যারিয়েবাসের অলিম্পিকে জয়লাভের অনেক আগে থেকেই অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, এবং এর সূচনা করেছিলেন জিউসের পুত্র হেরাকলস (রোমান হারকিউলিস) এবং আলকামিন একত্রে। এরপর থেকেই ষষ্ঠ শতাব্দী বি সি থেকে এটি গ্রীসের সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্রিয়া প্রতিযোগিতা হয়ে ওঠে।  

প্রাচীন গ্রিসের অলিম্পিক প্রতি চার বছর অন্তর ৬ ই আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জিউসের সম্মানার্থে অনুষ্ঠিত হতো। গ্রিসের উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত অলিম্পিযাতে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। যে কারণে শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিযোগিতার নাম অলিম্পিয়ার নাম অনুসারে অলিম্পিক রাখা হয়। এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রভাব এতটাই বেশি ছিলো যে প্রতি চার বছর অন্তর এই প্রতিযোগিতার সময়কাল ধরে সময় পরিমাপ শুরু করেছিলেন ঐতিহাসিকরা। যাকে বলা হতো অলিম্পিয়াড।  

আরও পড়ুন-চলচ্চিত্রের সূচনা কাল, কিভাবে সৃষ্টি হল হলিউডের।  

এর পরবর্তী কালে রোমান সাম্রাজ্য গ্রিস দখল করার পর অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অবনতি দেখা দিতে থাকে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলেও ক্রমশ খেলার মান হ্রাস পায়। ৩৯৩ এ ডি তে সম্রাট থিওডোসিয়াস প্রথম, যিনি ১২ শতাব্দি পর অলিম্পিক ও অন্যান্য পৌত্তলিক উৎসবের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।  

এখানে অলিম্পিকের সমাপ্তি ঘটলেও সবকিছু শেষ ছিল না এটি। ফ্রান্সের ব্যারন পিয়েরে ডি কবার্টিনে যিনি একজন শারীরিক শিক্ষার প্রচারক ছিলেন, তিনি প্রাচীন অলিম্পিকের সম্পর্কে যখন জানতে পারেন, তখন এটি কে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার কথা ভাবেন। বলা যায় একমাত্র তাঁর প্রচেষ্টাতেই আমরা আধুনিক অলিম্পিক দেখতে পেয়েছি। ব্যারনএর প্রচেষ্টাতেই অলিম্পিক আবার নতুন জীবন লাভ করে। তিনি ১৮৯২ সালের নভেম্বর মাসের প্যারিসের ইউনিয়ন ডেস স্পোর্টস অ্যাথলিটিক্সে প্রতি চার বছর অন্তর অলিম্পিক অনুষ্ঠিত করার কথা বলেন। এর দুই বছর পর তিনি ইন্টার্নেশনাল অলিম্পিক কমিটি (IOC) গঠনের অনুমোদন পান। বর্তমানে যেটি আধুনিক অলিম্পিক গেমসের কমিটি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত।  

ইন্টার্নেশনাল অলিম্পিক কমিটি গঠনের দুই বছর পর অর্থাৎ ১৮৯৬ সালে গ্রিসের এথেন্স শহরে আবার অলিম্পিকের সূচনা হয়। এই সময়ে কাল থেকেই আধুনিক অলিম্পিকের নতুনভাবে পুনরুজ্জীবন ঘটে। প্রথম আধুনিক অলিম্পিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশ ছিল ১৩ টি এবং মোট প্রতিযোগিতা ছিল ২৪০ জন (সকলেই পুরুষ)। ৬০,০০০ দর্শক এবং ৪৩ ধরনের ইভেন্ট নিয়ে সূচনা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠান অলিম্পিকের।

Leave a Reply