চীন দ্বারা নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ। ফাস্ট নামে পরিচিত টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের সূচনা লগ্নের সন্ধান করবে

বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশ চীন। যে দেশ বর্তমানে প্রযুক্তির দিক দিয়ে অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই অগ্রগতি অর্জন করেছে। এবার এই দেশই তৈরি করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ অর্থাৎ দূরবীক্ষণ যন্ত্র। চীনের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়ের উপরে নির্মিত এই টেলিস্কোপটি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম টেলিস্কোপ। যেটিকে ফাস্ট (FAST) নামে নামকরণ করা হয়েছে।

চীন দ্বারা নির্মিত এই টেলিস্কোপটি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ। চীনের তরফ থেকে বিশাল এই টেলিস্কোপটি নাম দেওয়া হয়েছে “স্কাই আই” (SKY EYE) অর্থাৎ “আকাশের চোখ“। চিন থেকে এদিকে স্কাই আই  নাম দেওয়া হলেও এর একটি আনুষ্ঠানিক নাম রয়েছে। “ফাইভ-হান্ড্রেড মিটার অ্যাপারচার স্ফেরিক্যাল টেলিস্কোপ” ( five hundred  meter aperture spherical telescope) বা “ফাস্ট” নামে নামকরণ করা হয়েছে এটিকে।

বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ
রেডিও টেলিস্কোপ নির্মাণের উদ্দেশ্য-

“ফাস্ট” অর্থাৎ ফাইভ হান্ড্রেড মিটার অ্যাপারচার স্ফেরিক্যাল টেলিস্কোপ নির্মাণ করা হয় অন্তহীন মহাকাশের গভীরতম ও অন্ধকার কোণে যেখানে এখনও পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি সেখানে পৌছানোর জন্য। বিশ্বের সৃষ্টি কিভাবে সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা, এছাড়া টেলিস্কোপ সাহায্য করবে এত বড় মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো অন্য কোন গ্রহ আছে কিনা, যেখানে প্রাণের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে সেই বিষয়ে গবেষণা করা।

আরো পড়ুন-চাঁদে জলের খোঁজ পেলো নাসা (NASA)

রেডিও টেলিস্কোপ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য- 

বিশ্বের বৃহত্তম এই টেলিস্কোপটি নির্মাণের পূর্বে বৃহত্তম টেলিস্কোপ অর্থাৎ দূরবীন ছিল পুয়ের্তো রিকোর আরিসিবো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। পূর্বের বৃহত্তম দূরবীন টির ব্যাস ৩০৫ মিটার। এর পরবর্তীতে নির্মিত ফাস্ট (ফাইভ হান্ড্রেড মিটার স্ফেরিকাল অ্যাপারচার টেলিস্কোপ) ৫০০ মিটার ব্যাস বিশিষ্ট। যেটি এর নামেই উল্লেখিত রয়েছে। ফাস্ট এর নির্মাণ কাজের সূচনা হয় ২০১৬ সালে। এর পূর্বে আরিশিবো রেডিও টেলিস্কোপটিই বিশ্বের বৃহত্তম দূরবীন হিসেবে বিবেচিত ছিল। কেবল মাত্র বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম টেলিস্কোপই নয় এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপে। যেকোনো দূরবীক্ষণ যন্ত্রের চেয়ে এটির ক্ষমতা আড়াই গুণ বেশি।

স্কাই আই বা ফার্স্ট এর মিশন-

ফাস্ট টেলিস্কোপ বা দূরবীন নির্মাণ করা হয় মহাজাগতিক রেডিও সিগন্যাল গুলি ধরার জন্য। যে রেডিও সিগন্যাল গুলি সাহায্য করে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিবর্তনের রহস্য উদঘাটন করতে। এই টেলিস্কোপটির প্রধান কাজ মহাকর্ষীয় তরঙ্গ অনুসন্ধান। এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ কে বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে অতিকায় অন্তহীন মহাজগতে বহু দূরে কোথাও কোন প্রাণ বা মানব সভ্যতার অস্তিত্ব রয়েছে কিনা।

শক্তিশালী এই টেলিস্কোপটি তৈরি করা হয় আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা। এটিতে ব্যবহৃত ৪৪০০ অ্যালুমিনিয়াম প্যানেল গুলি মহাকাশের বিভিন্ন দিকে কেন্দৃত হতে সক্ষম। যে ক্ষমতা পূর্বের টেলিস্কোপ গুলিতে অনুপস্থিত ছিল। যে কারণে এগুলির সাহায্যে আরো বিস্তৃত এলাকা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশাল এই টেলিস্কোপ মহাজাগতে ঘটে যাওয়া সামান্য থেকে সামান্য ঘটনাও সনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে। মহাজগতের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া তরঙ্গ বিস্ফোরণ (এফ আর বি’স) মাত্র কয়েক মিলি সেকেন্ডের জন্য স্থায়ী হয়। এই টেলিস্কোপটি সেই কয়েক মিলি সেকেন্ডের তথ্য সনাক্ত করবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। চিন দ্বারা নির্মিত বৃহৎ এই টেলিস্কোপ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতে অনেকটা সাহায্য করবে মহাকাশকে আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বিজ্ঞানীদের দল।

Leave a Reply