নাসার আশঙ্কা ২০৩০ সালে বিশাল বন্যা হতে পারে চাঁদের ‘Wobble’ এর কারণে

সম্প্রতি আমেরিকার অন্যতম মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NASA) একটি গবেষণাপত্র প্রত্যেকের নজর কেড়েছে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী আমেরিকায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বন্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এই বন্যা বৃদ্ধির কারণ প্রত্যেকের মনের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। Hawaii ইউনিভার্সিটির একটি বৈজ্ঞানিক দল নাসা সি-লেভেল চেঞ্জ সাইন্স টিম এই গবেষণার মূলে রয়েছে। তাদের গবেষণাপত্র অনুযায়ী চাঁদের কক্ষপথ পরিবর্তন বা ‘wobble‘ এর কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাপক পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। যার কারণে মাত্রাতিরিক্ত বন্যা দেখা দেবে আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গায়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন একটি চন্দ্র চক্র বা লুনার সাইকেল ১৮.৬ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয় যার প্রথমার্ধে উচ্চ জোয়ারের হার কম পরিমাণে হয় এবং নিম্ন জোয়ার গুলির পরিমাণ ঠিক তার বিপরীত অর্থ উচ্চহারে ঘটে। এর দ্বিতীয়ার্ধে ঠিক বিপরীত ঘটনা লক্ষ করা যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলবর্তী বেশ কয়েকটি অঞ্চলে দু’বছর আগে উচ্চ জোয়ারের বন্যা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ধরনের বন্যা গুলিকে বলা হয় sunny day floods বা nuisance flood। ন্যাশনাল ওশিয়ানিক এন্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২০০৯ সালে এই ধরনের বন্যার সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০টি।

নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বিল নেলসন জানিয়েছেন সমুদ্রপৃষ্ঠের নিকটবর্তী নিম্ন অঞ্চলগুলিতে এই ধরনের বন্যার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আর এ ধরনের বন্যার সাথে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ টান বা গ্র্যাভিটেশনাল পুল এটিকে আরো ভয়ানক করে তুলবে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও মাধ্যাকর্ষণের কারণে সমুদ্রের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টিকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাবে।

যেহেতু এটি চন্দ্র চক্রের প্রথম পর্যায়ে চলছে সে ক্ষেত্রে বন্যা গুলি মারাত্মক হবেনা এই সময়। তবে এর পরের বার অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধে এর প্রভাব ঠিক তার বিপরীত থাকবে। এই ধরনের ঘটনা ঘটতে চলেছে ২০৩০ সালের কাছাকাছি। ২০৩০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে আরো খারাপ পরিস্থিতি দেখা দেবে আমেরিকার উপকূলবর্তী নিম্ন অঞ্চলগুলিতে।

আরো পড়ুন-মঙ্গলগ্রহের সবচেয়ে কাছের এবং বৃহত্তম ‘Natural Satellite’ ধরা পড়ল নাসার ক্যামেরায়

চন্দ্রচক্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমুদ্রের জল প্রায় সমস্ত মার্কিন মূল ভূখণ্ডের উপকূল রেখা গুলি কে জলের তলায় নিয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই বন্যা প্রায় এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে এবং একসাথে অনেকগুলো জায়গায় বন্যার প্রভাব দেখা যাবে। বন্যা কবলিত শহরগুলি সেই সময় সূর্য এবং চন্দ্র এর অবস্থান এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

Leave a Reply