মহাকাশে হ্যালোইনের ভুতুড়ে লন্ঠন খুঁজে পাওয়ার ঘটনা সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলো নাসা। হ্যালোইনে আশ্চর্য চমক নাসার

সারা বিশ্ব জুড়ে যখন হ্যালোইন উৎসব পালিত হচ্ছিল ঠিক সেই উৎসবের আমেজ এর মধ্যেই মার্কিন মুলুকের ‘ন্যাশনাল এয়ারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (নাসা/ NASA) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তোলপাড় ফেলে দেয় নেট দুনিয়ায়। সম্প্রতি নাসা তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে হ্যালোইন কে কেন্দ্র করে ভুতুড়ে মহাজাগতিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে চলেছে।

কিন্তু প্রশ্নটা হল কি এই হ্যালোইন, যে উৎসবকে ঘিরে নাসা সোশ্যাল মিডিয়াতে এরকম পোস্ট গুলো করে চলেছে। প্রতিবছর ৩১শে অক্টোবর পালিত হওয়া এই দিনটি আসলে মৃত ব্যক্তি যারা স্থানীয় লোকমতে স্বর্গে পৌঁছান না বা পৌঁছাতে পারেন না, তাদের উদ্দেশ্যে পালিত হওয়া একটি উৎসব। প্রায় ২০০০ বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবের সূচনা হয় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর ফ্রান্স অঞ্চল ঘিরে। এই সব দেশ গুলিতে নতুন বছরের সূচনা হয় ১লা নভেম্বর।  এই দিনটি গ্রীষ্ম এবং শীতের শুরু এবং তারই সাথে সূচনা ঘটে ফসল কাটার। পূর্বে হ্যালোইন উৎসব সূচনাকালে বছরের শেষে ঠিক এই সময়টাতেই প্রায়শই অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটতো। তখনকার মানুষ বিশ্বাস করতেন যে বছরের এই সময়টিতে জীবিত ও মৃত সংসারের গণ্ডি শিথিল হয়ে পড়ে। যে কারণে তারা ৩১শে অক্টোবর দিনটিতে হ্যালোইন পালন শুরু করেন। তারা মনে করতেন বছরের এই দিনেই মৃত মানুষদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসে  তাদের স্মরণে জালানো হত আগুন এবং বলি দেওয়া হতো প্রাণী ও ফসল।

আরও পড়ুন-চাঁদে জলের খোঁজ পেলো নাসা

এরপর যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে রীতি নীতির পরিবর্তন হয়েছে অনেকটাই। ধীরে ধীরে হ্যালোইন একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে হয়ে পরে। মোটামুটি ১৮০০ এর দশকের শেষের দিকে আমেরিকাতে হ্যালোইনের দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হতে থাকে। ছুটির দিনে রূপান্তরের জন্য সকলেই এই দিনটিতে বিশেষ সাজে সজ্জিত হয়। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক সকলে এই দিনটিতে ভুতুড়ে পোশাক পড়ে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে গিয়ে ক্যান্ডি বা লজেন্স জোগাড় করার রীতি চালু করে। এই বিশেষ দিনটিতে বাড়ি ঘর সাজানো হয় মিষ্টি কুমড়ার উপরে চোখ, মুখ কেটে তাতে আলোকিত করার মাধ্যমে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বেশিরভাগ জায়গাতেই কুসংস্কার ও ধর্মীয় প্রভাব হারিয়ে ফেলতে থাকে এই হ্যালোইন উৎসব।

পরবর্তীতে আমেরিকা আইরিসের দুর্ভিক্ষে পলাতক মানুষদের দ্বারা প্লাবিত হলে তারা আমেরিকায় এসে জাতীয়ভাবে হ্যালোইন উদযাপন কে জনপ্রিয় করে তুলতে সহায়তা করে। ইউরোপীয় উদযাপন রীতি অনুসরণ করে আমেরিকানরা বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার বা অর্থের জন্য জিজ্ঞাসা করতে শুরু করে। এই প্রথাটি সেই সময় কাল থেকে বর্তমানেও চলে আসছে। হ্যালোইনের বিভিন্ন অদ্ভুত পোশাক পরিধান রীতি ও চালু হয় কয়েকশো বছর আগে। শীতকালে মানুষ অনিশ্চিত ও ভীতিজনক সময় কাটাতেন, খাদ্যাভাব ছিল তারই একটি মূল কারণ। তারা মনে করতেন হ্যালোইনে ভূতেরা পার্থিব জগতে চলে আসে, সে কারণে তারা রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে বেরোতেন না। তারা ভাবতেন বাইরে বেরোলেই হয়তো ভূতের মুখোমুখি হবেন। তখন এই ভূতেদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মুখোশ ও ভুতের সাদৃশ্য জামা কাপড় পড়তেন, যাতে ভূতেরা তাদেরও নিজেদের লোক ভেবে ভুল করেন। এভাবেই সূচনা হয় হ্যালোইনে অদ্ভুত পোশাক পরিধানের।

হ্যালোইনে ভূতেদের দূরে রাখতে ঘরের বাইরে জ্বালানো হত লন্ঠন। নাসা তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবিটি পোস্ট করেছে তাতেও দেখা যাচ্ছে মহাকাশে ঠিক তেমনি ভেসে উঠেছে এক বিশাল ভুতুড়ে লন্ঠন। নাসা জানিয়েছে এই ছবিতে যেটা দেখা যাচ্ছে সেটি হল দুটি ছায়াপথের। যে দুটি ছায়াপথ পরস্পরের ধাক্কা খাওয়াতে এমন এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতেই কিন্তু থেমে যাইনি নাসা। উদযাপনের শেষ হতে না হতেই সম্প্রতি সেই দুটি ছায়াপথ সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন নাসা, তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার হ্যান্ডেলে। তবে এটি যে নাসার নিজস্ব নির্মাণ তা বলতে অপেক্ষা রাখে না, কারণ মহাশূন্যে শব্দের কোন অস্তিত্ব নেই। নাসা সনিফিকেশন কে ব্যবহার করে ছবিটিতে শব্দ যোগ করেছে। নাসার প্রকাশিত ভিডিওটিতে শব্দ ছবির বাম দিক থেকে ডান দিকে এগিয়ে চলেছে দেখা যাচ্ছে। হ্যালোইনে এমন ভিডিও ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে সকলকে একেবারে চমকে দিয়েছেন নাসা।

Leave a Reply