অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিষাক্ত প্রাণী

আজকের এই নিবন্ধে আমরা অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিষাক্ত প্রাণীদের নিয়ে আলোচনা করবো। আপনারা যদি অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে আকর্ষণ বা কোনদিন অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করতে চান তবে আজকের নিবন্ধটি পুরোটা পড়বেন।

পৃথিবীতে অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দেশ যেখানে ঘরের বাইরে ও ভেতরে উভয় জায়গাতে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এখানকার কিছু প্রাণী। স্থলভাগে থাকার সময় সাপ এবং মাকড়শা থেকে অবশ্যই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন। সারা পৃথিবীর বিষাক্ত সাপের ১০০ এর বেশি প্রজাতি অস্ট্রেলিয়াতে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিষাক্ত সাপের প্রজাতি

বিষাক্ত সাপ এখানে সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় গরমকালে সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি থাকে। বাইরের গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে এখানকার সাপেরা ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেন বিশেষ করে টয়লেটে।

১. ইস্টার্ন ব্রাউন সাপ (Eastern Brown Snake):

অস্ট্রেলিয়ায় সাপের কারণে মৃত্যুর নিরীক্ষা দেখতে গেলে এই ইস্টার্ন ব্রাউন সাপ ৫০% দায়ী। টাইপান সাপ এর তুলনায় এর বিষের কার্যক্ষমতা কম হলেও এই সাপের কারণে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এর প্রধান কারণ হলো এই সাপ মানুষের ঘর বাড়ির সবচেয়ে কাছে রয়েছে।

২. টাইগার সাপ (Tiger Snake):

টাইগার সাপ অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ- পূর্ব দিকে বেশি দেখা যায়। এই সাপের শরীরের বাঘের মতন ডোরাকাটা দাগ থাকার ফলে এর নাম টাইগার সাপ। এই সাপের কাটার ফলে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে একজন মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। তবে এই সাপ একটু ভীতু প্রজাতির, এই কারণে মানুষের সামনে আসলে সাপ গুলি পালিয়ে যায়। টাইগার সাপের এন্টিভেনম রয়েছে ফলে ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনি হাসপাতালে যেতে পারলে হয়তো আপনি বেঁচে যাবেন।

৩. কার্পেট পাইথন (Carpet Python):

কার্পেট পাইথন অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়াতে দেখতে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়াতে এই সাপ ৬ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ভিডিওটি আপনি দেখতে পাবেন সাপটি একটি আস্ত কুমির কে গিলে ফেলতে। গরমের সময় মানুষের থাকার বাড়িতে উঠোনে, সুইমিংপুলে কার্পেট পাইথনকে দেখা যায়। খরগোশ, ইঁদুর, পাখি ও বিভিন্ন সরীসৃপ এদের প্রধান খাদ্য।

অস্ট্রেলিয়ায় বিষাক্ত মাকড়সা

সাপ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিষাক্ত মাকড়সা কয়েক মিনিটে আপনার প্রাণ নিতে পারে। শুধু জঙ্গল নয় এখানে কার বিষাক্ত মাকড়সা ঘরের মধ্যে, ফুল বাগানেও দেখা যেতে পারে।

১. ফানেল ওয়েব স্পাইডার (Funnel Web Spider):

ফানেল ওয়েব নামক মাকড়সাটি অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সার মধ্যে পড়ে। অস্ট্রেলিয়াতেই মাকড়সাটির মোট ৩৫ টি প্রজাতি রয়েছে এদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক হলো ‘সিডনি ফানেল ওয়েব স্পাইডার’। এর কামড়ানোর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আপনি মারা যেতে পারেন। তবে অস্ট্রেলিয়ান গবেষকেরা এর এন্টি ভেনম তৈরি করে ফেলেছে। এই মাকড়সা কামড়ানোর পরে প্রচন্ড যন্ত্রণা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, মাংসপেশিতে টান অনুভব হয়। এই ধরনের মাকড়সা ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।

২. রেড বেক স্পাইডার (Red Back Spider):

রেড ব্যাক মাকড়শাটি অস্ট্রেলিয়ার একটি বিষাক্ত মাকড়সা হলেও, এরা আক্রমণাত্মক হয় না। এই মাকড়শাটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোত্র দেখা যায়। প্রতিবছর ১৫০০ এর বেশি লোক এর দ্বারা আক্রান্ত হয়। এন্টিভেনম তৈরি হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত এর কামরে কারোর মৃত্যু হয়নি।

৩. ট্র্যাপ ডোর স্পাইডার (Trap Door Spider):

ট্র্যাপ ডোর মাকড়সাটি ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। মাকড়শাটি শিকার কে ধরার জন্য জাল এর মাধ্যমে ফাঁদ পাতে, সেই কারণে এরকম নামকরণ করা হয়েছে। এই মাকড়শাটি অস্ট্রেলিয়ার জনবহুল এলাকায় দেখা যায়। এদের কামরে আপনার হালকা ব্যথা বমি ভাব হতে পারে। ফানেল ওয়েব মাকড়শার মতো এর উপসর্গ একরকম হওয়ায় মানুষ কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ট্র্যাপ ডোর মাকড়শাটির স্ত্রী প্রজাতি পুরুষ প্রজাতি থেকে আকারে বড় হয়, কিন্তু পুরুষ জাতি বেশি আক্রান্ত হয়।

আরো পড়ুন- অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউস

অস্ট্রেলিয়ায় বিষাক্ত জলজ প্রাণী

অস্ট্রেলিয়ার স্থলভাগে সাপ এবং মাকড়শার ভয় যেমনি আছে, তেমনি জলভাগেও আপনি সুরক্ষিত নয়। কারণ অস্ট্রেলিয়া চারিদিক থেকে সমুদ্রের ঘেরা এবং পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর এই অঞ্চলেই অবস্থিত।

১. বক্স জেলিফিশ (Box jellyfish):

বক্স জেলিফিস পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত জেলিফিশ গুলির মধ্যে একটি। আকারে এগুলি ৯ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র উপকূল গুলিতে যখনই এই জেলিফিস দেখা যায় তৎক্ষণাৎ সমগ্ৰ উপকূল ভাগ খালি করে দেওয়া হয়। এই জেলিফিশের কামোরের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি কে সমুদ্র তীর পর্যন্ত নিয়ে আস্তে আস্তে মারা যায়। এই জেলিফিশের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে, জেলিফিসটি তার হুলের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আক্রান্ত করে। জেলিফিসটি দেখতে সাদা বর্ণের হয়। এর বিষাক্ত বিষ মানব দেহের হৃৎযন্ত্রতে আক্রমণ করে এবং বেশিরভাগ সময় হার্ট অ্যাটাক এর ফলে মানুষের মৃত্যু হয়।

২. স্টোন ফিশ (Stone fish):

স্টোন ফিশ দেখতে পাথরের মতো, সমুদ্র তলদেশে এবং উপকূল ভাগে এই প্রাণী টিকে দেখতে পাওয়া যায়। উপর থেকে আপনি প্রাণীটিকে দেখলে একদম পাথরের মতো মনে হবে। পৃথিবীর বিষাক্ত  জলজ প্রাণী গুলির মধ্যে এটি অন্যতম, এই প্রাণীটি জলের উপরে ২৪ ঘন্টা বেঁচে থাকতে পারে। স্টোন ফিস এর উপর যদি আপনি পা দেন তবে এর বিষাক্ত বিষ আপনার শরীরে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করবে। স্টোন ফিস ১৩ সেন্টিমিটার এবং প্রায় ২ কিলোগ্রাম এর ওজন হয়।

Leave a Reply