এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রাণের খোঁজ চালাবে পারসিভেয়ারেন্স রোভার, জানালো নাসা

আমেরিকার অন্যতম মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) গত বছরেই মহাকাশ বিজ্ঞান এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যেটি হল তাদের অন্যতম মার্স রোভার পারসিভেয়ারেন্স। এই রোভারটি লালগ্রহের মাটিতে অবতরণের পর সেখানকার নানান অজানা তথ্য ও ছবি পাঠিয়েছে নাসার কাছে। লালগ্রহে থাকা অন্যতম জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করেছিল এই মার্স রোভার। আগামী দুই বছর এই মহাকাশযান লালগ্রহের নানান নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন সেই সমস্ত নমুনা থেকে মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

পারসিভেয়ারেন্স রোভার পাঠানোর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান করা। যে ক্রেটারটিতে রোভার অবতরণ করেছে সেটি একসময় জলে পরিপুর্ণ ছিল। যে কারণে বিজ্ঞানীদের ধারণা সেখানে প্রাণের সম্ভাবনা থাকলেও থাকতে পারে। আর এই আশা নিয়েই বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের ওই অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এতদিন রোভারের রুটটি পরিচালনা করা হতো পৃথিবী থেকে। বৃহস্পতিবার নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেযেরো ক্রেটার পার করে লালগ্রহের মাটিতে এবার নিজের রাস্তা নিজেই বের করে নেবে পারসিভেয়ারেন্স।

নাসার তরফ থেকে জানানো হয় স্বয়ংক্রিয় এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরুর আগে রোভার পরিচালনার দলটি মঙ্গল গ্রহের আরও গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর জন্য নেভিগেশন রুটের পরিকল্পনা করছেন। নেভিগেশন রুট তৈরীর জন্য স্পেশাল থ্রিডি গ্লাস লাগিয়ে ম্যাপ তৈরি করা হবে এবং রোভার কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানোর জন্য অত্যাধুনিক অটো নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করবেন তারা। বিজ্ঞানীরা এই অটো নেভিগেশন সিস্টেম এর নাম দিয়েছেন ‘অটোনাভ’ (AutoNav)। এই সিস্টেমটির সাহায্যে মঙ্গল গ্রহের মাটিতে থ্রিডি মানচিত্র তৈরি করবে যে মানচিত্রের সাহায্যে আসন্ন বিপদ এবং অন্যান্য বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে চলবে রোভারটি। শুধু তাই নয় এই সিস্টেমের সাহায্যে নিজের রাস্তা নিজেই বেছে নেবে পারসিভেয়ারেন্স।

আরো পড়ুন-১০০ কিলোমিটার চওড়া ধুমকেতু এগিয়ে চলেছে সূর্যের দিকে, জানালেন বিজ্ঞানীরা

ছয় চাকা বিশিষ্ট পারসিভেয়ারেন্স রোভারে অটোনমাস ড্রাইভ সিস্টেম ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার নাসার জেট প্রপুলসন ল্যাবরেটরির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ভান্দি ভর্মা। অটোন্যাভ এর মূল বৈশিষ্ট্য গুলি পর্যবেক্ষণ করা হবে জেযেরো গহবরের মাটিতে। তবে সম্পূর্ণ দায়িত্ব এই অটোন্যাভ এর উপরে ছেড়ে দেবেন না বিজ্ঞানীরা। যেকোনো রকম বিপদ এড়াতে মিশনের সাথে যুক্ত থাকবেন বিজ্ঞানীদের দলও। নাসার এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply