ভারতের ৫টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট

আজকের এই নিবন্ধটি তা আমরা ভারতের ৫টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করব।  সারা পৃথিবীতে প্রধান কিছু শক্তি দ্বারাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বায়ু শক্তি ও সৌর শক্তি ইত্যাদি।   

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কিভাবে উৎপন্ন করা হয়:

যে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজন হয় নিউক্লিয় ফিশন আর এই নিউক্লিয়ার ফিশন চালাতে জ্বালানী রূপে ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়াম। এই ইউরেনিয়াম অত্যন্ত ভারী একটি পরমাণু যার বিক্রিয়ার ফলে এটি অত্যন্ত ছোট ছোট কনায় বিভক্ত হয়ে যায়। এই সব কনার মধ্যে নিউটন ও প্রচুর পরিমাণে বাষ্প নির্গত হয়, আর এই বাষ্পের সাহায্যে চালানো হয় টারবাইন এবং এই টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।  

ভারতের ৫টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

  1. কাকর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  2. মাদ্রাজ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. কাইগা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  4. রাওয়াতভাটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  5. নাররা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র  

১/ কাকরপার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাটের কাছে অবস্থিত। বর্তমানে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। প্রথমে ২টি ইউনিট ছিল কিন্তু এই কেন্দ্রে পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে আরও দুটি ইউনিটের ছাড়পত্র দেয় ভারত সরকার। বর্তমানে ৩টি ইউনিট সচল রয়েছে আরও একটি ২০২১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কথা আছে। প্রথম দুটি ইউনিট থেকে ৪০০ মেগাওয়াট ও পরের নির্মিত দুটি ইউনিট থেকে ১৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।   

২/ মাদ্রাজ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তামিলনাড়ুতে অবস্থিত। কেন্দ্রটি নির্মাণ হয়েছিল ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রতে বর্তমানে দুটি ইউনিট সক্রিয় রয়েছে যেখান থেকে ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ভবিষ্যতে আরো দু’টি ইউনিট এর পরিকল্পনা করা হয়েছে যেখান থেকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে একটি ইউনিটের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।  

আরো পড়ুন- Cigarette er bangla mane ki – সিগারেট এর বাংলা মানে কি

আরো পড়ুন- ভারতের সবচেয়ে জনবহুল বস্তি

৩/ কাইগা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে কাইগা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। এই কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে প্রায় ১২ বছর সময় লেগেছিল, ২০০০ সালে এর উদ্বোধন করা হয়। এই পারমাণবিক কেন্দ্রে মোট ৪টি ইউনিট রয়েছে যেখান থেকে ২২০ ইউনিট করে মোট ৮৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ক্রমাগত ৮৯৪ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এই কেন্দ্রটি একটি বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে, যা ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা NPCIL দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ কর্ণাটক, অন্ধপ্রদেশে সরবরাহ করা হয়।  

৪/ রাওয়াতভাটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি রাজস্থানে অবস্থিত। এটি ভারতের সবচেয়ে পুরনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে একটি যেটি নির্মাণ হয়েছিল ১৯৬০ থেকে ১৯৭০  দশকের মধ্যে। ১৯৭৩ সালে কেন্দ্রটি চালু করা হয়। কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কেন্দ্রটিতে মোট ৫টি ইউনিট রয়েছে যেখানে ১টি ইউনিট থেকে ২০০ ও বাকি ৪টি ইউনিট থেকে ২২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।  

৫/ নাররা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

ভারতের উত্তরপ্রদেশে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। ১৯৯১ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়। এই কেন্দ্রে মোট ২টি ইউনিট রয়েছে, প্রত্যেকটি ইউনিট ২২০ মেগাওয়াট করে মোট ৪৪০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।   

উপরের এই ৫টি প্লান্ট ছাড়াও  দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে যাদের নাম তারাপুর মহারাষ্ট্র, কুদানকুলাম তামিলনাড়ুতে। এই দুটি মিলিয়ে মোট সাতটি কেন্দ্র রয়েছে ভারতবর্ষে। এই ৭টি কেন্দ্র মিলিয়ে ভারতবর্ষের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২ শতাংশ বিদ্যুতের যোগান দেয় যা তুলনামূলকভাবে যথেষ্টই কম।

Leave a Reply