কিসের হার্টবিট শুনতে পেল নাসা? অবাক বিজ্ঞানীরা

নাসা: ন্যাশনাল অ্যারোনটিক স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) এর তরফ থেকে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে তারা একটি স্যাটেলাইটের হার্টবিট শুনতে পেয়েছে, যা নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বাসিত নাসার বিজ্ঞানীরা। এই ঘটনাটি 1970 সালে নাসার তরফ থেকে পাঠানো দুটি স্যাটেলাইট কে নিয়ে ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২। এই দুটি স্যাটেলাইট ১৯৭০ সালে একই সময়ে ১৬ দিন আগে পরে লঞ্চ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি এই দুটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নাসার। তবে এই বিষয়ে জানার জন্য আপনাদের একটু এই দুটি স্যাটেলাইট সম্পর্কে অবগত হতে হবে।

নাসা: কি এই ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২

পৃথিবী ও নাসার ইতিহাসের এই দুটি এমন এক স্যাটেলাইট যেটি লঞ্চ করা হয় আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরের জগতকে খোঁজার জন্য। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে লঞ্চ হওয়া এই দুটি স্যাটেলাইট বর্তমানে আমাদের সৌরমণ্ডল পেরিয়ে ইন্টারস্টেলার স্পেসে আছে। ঘন্টায় প্রায় ৩০ হাজার মাইল আরো বেশি গতিবেগে ছুটে চলেছে এই দুটি স্যাটেলাইট অজানা জগতের সন্ধানে। এই দুটি স্যাটেলাইটে পৃথিবীর মানুষ, বৈচিত্র, ভাষা ও মানুষের আকৃতি সহ বিভিন্ন লেখা ও ছবি দেওয়া আছে। বাইরের অন্য কোন দুনিয়ায় যদি এই স্যাটেলাইটটিকে কখনো কেউ খুঁজে পায় তবে তারা পৃথিবীর সম্পর্কে অবগত হবে। বিশেষত এই উদ্দেশ্যে স্যাটেলাইট দুটিকে রওনা করা হয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি ভয়েজার স্যাটেলাইট এর থেকে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নাসার কারণ এই স্যাটেলাইটের অ্যান্টেনা টি ম কোন কারণবশত পৃথিবীর বিপরীতে ঘুরে যায় ফলে নাসার বিজ্ঞানীরা এটির সঙ্গে যোগাযোগ সক্ষমে ব্যর্থ হয়। নাসার যে স্যাটেলাইটটি বর্তমানে সবচেয়ে দূরে রয়েছে সেখান থেকে গত ২১ জুলাই সিগনাল পাঠানো হয় ভাইজারের স্যাটেলাইটে। কিন্তু সেখান থেকেও কোন আশার আলো দেখতে পাইনি নাসার বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কিছুদিন পরে আসলো সেই অবাক করা সিগন্যাল।

Read More, নাসার ভয়েজার মিশন- ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মিশন

নাসার “ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক” এর সাহায্য নিয়ে পুনরায় ভয়েজার স্যাটেলাইটে সিগন্যাল পাঠানো হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভয়েজার-২ থেকে নাসার বিজ্ঞানীরা হার্টবিট শুনতে পেয়েছে। এর অর্থ হল যে সিগনাল নাসার বিজ্ঞানীরা পাঠিয়েছে সেটি ভয়েজার-২ স্যাটেলাইট ধরতে সক্ষম হয়েছে। এরপরই নাসার বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারে ভয়েজার স্যাটেলাইট টি এখনো ভালো অবস্থায় আছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ছিল কোন গ্রহাণুর সঙ্গে আঘাতের ফলে হয়তো ভয়েজার স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এই সিগনাল আসার পর এখন স্বস্তি পেয়েছে নাসার বিজ্ঞানীরা।

তবে এই দুটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা বর্তমানে যথেষ্ট সংশয় পূর্ণ রয়েছে। স্যাটেলাইটের অ্যান্টেনা পুনরায় পৃথিবীর দিকে ঘোরানো এক প্রকার অসম্ভব হলেও নাসার বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এই বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাসা, মহাকাশ ও আন্তর্জাতিক অন্যান্য খবরের জন্য আমাদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, টুইটার পেজ, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি প্লাটফর্মে ফলো করতে পারেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply