টাইটানিকে এশিয়ার একমাত্র জীবিত জাপানি যাত্রী। যাকে কাপুরুষ বলা হয়, কিন্তু কেন

টাইটানিক জাহাজের গল্প প্রায় আমরা সকলেই শুনেছি বা 1997 সালে তৈরি হওয়া হলিউডের সিনেমা ‘Titanic‘ এর মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণ ঘটনাকে কল্পনা করতে পারি। 1912 সালে প্রথমবার সেই সময়কার বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের শহর সাউদাম্পটন থেকে। যাত্রা শুরু করার পর ফ্রান্সের চেরবর্গ বন্দর হয়ে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল RMS টাইটানিকের। কিন্তু মাঝপথে যাওয়ার পরই আটলান্টিক মহাসাগরে হিমশৈলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে টাইটানিক তলিয়ে যায় মহাসাগরের মাঝে। প্রায় 2435 জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র 705 জন যাত্রী বেঁচে গিয়েছিল।

টাইটানিকে এশিয়ার যাত্রী|Titanic Asian pessenger

যে 705 জন সৌভাগ্যবান যাত্রী বেঁচে গিয়েছিল তার মধ্যে এশিয়া মহাদেশের একমাত্র যাত্রী ছিল জাপানের মাসাবুমি হোসোনো। কিন্তু কে ছিলেন এই মাসাবুমি হোসোনো? কেন তাকে ঘৃণা করে জাপানের লোক আসুন জেনে নিই।

কে ছিলেন মাসাবুমি হোসোনো? (who is Masabumi hosono?)

মাসাবুমি হোসোনো ছিলেন জাপানের একজন সরকারি রেল ডিরেক্টর। 41 বছর বয়সী মাসাবুমি কে জাপান রেলওয়ে রাশিয়ায় পাঠায় দু’বছরের জন্য। যাতে সে রাশিয়ায় রেল ব্যবস্থার পরিকাঠামো দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে এবং সেটা জাপানে এসে কাজে লাগাতে পারে। রাশিয়ায় থাকবার 2 বছর পর তার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড থেকে টাইটানিকে চেপে নিউইয়র্ক যাওয়া ও সেখান থেকে জাপান।

টাইটানিকে এশিয়ার জীবিত যাত্রী|Titanic alive asian only passenger

কেন তাকে ঘৃণা করা হয়?

সাউদাম্পটন থেকে মাসাবুমি হোসোনো টাইটানিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট ক্রয় করেন। কারণ জাপান সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের টাকায় প্রথম শ্রেণীর টিকিট কেনার অনুমতি ছিল না। এরপর টাইটানিক জাহাজের দুর্ঘটনার রাতে সে যখন জানতে পারে জাহাজটি ডুবে যাবে তখন সে জাহাজে থাকা রিজার্ভ নৌকোর কাছে যান।

টাইটানিকের নিয়ম ছিল জরুরি অবস্থায় বাচ্চা, মহিলা ও প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের সবার আগে সুরক্ষিত করা। সেইমতো তখন মহিলাদের নৌকায় করে জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছিল। সেই সময়ে একজন লোক নৌকার উপরে ঝাঁপ দেয়, সেই দেখে মাসাবুমি হোসোনো তার সাথে একটি রিজার্ভ নৌকার উপর ঝাঁপ দেয় এবং প্রাণে বেঁচে যায়। পরে অন্য একটি জাহাজে নিউইয়র্ক যাওয়ার পর সে নিজের দেশ জাপানে ফিরে আসে।

আরো পড়ুন- পৃথিবীর বুক থেকে ডাইনোসরদের হারিয়ে যাওয়ার আসল কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকরা

জাপানে আসার পর একটি খবরের কাগজে তিনি সাক্ষাৎকার দেয়, যেখানে ঘটনা সম্পূর্ণ বিবরণ তিনি বলেন। যে নিবন্ধটির হেডলাইন দেওয়া হয় ‘ভাগ্যবান জাপানের ছেলে‘ কিন্তু সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর জাপানের জনগণ তা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি। তৎকালীন বহু সংবাদপত্র তখন তাকে কাপুরুষ, বেইমান, ভীতু বলে সম্বোধন করতে থাকে। জাপানিদের এই ঘৃণার প্রধান কারণ হলো জাপানের একটি নীতি। যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের সকল কর্মচারীদের দেশ ও জাতির স্বার্থে নিজের জীবন ত্যাগ করা বা বিলিয়ে দেওয়া। সেই সময় রেলের ডিরেক্টর পদের চাকরিটিও কেড়ে নেওয়া তার।

টাইটানিকে এশিয়ার যাত্রী|Titanic Asian pessenger

রিজার্ভ নৌকার অভাবে যেখানে প্রায় 1800 এর মত যাত্রী মারা গিয়েছিল। সেখানে একজন পুরুষ হয়ে কিভাবে লুকিয়ে তিনি নৌকায় উঠে ছিলেন। তা জাপান বাসি কখনোই মানতে পারেননি।

পরবর্তীকালে রাশিয়ার অভিজ্ঞতার জন্য জাপানের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাসাবুমি হোসোনো কে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রেলের কাজ করেছিলেন। 1939 সালের 14 মার্চ তিনি পরলোকগমন করেন।

আরো পড়ুন- ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে জানেন? মানসা মুসার ইতিহাস

Leave a Reply